মরসুমের শেষবেলায় অস্বস্তি, ‘এল নিনো’র প্রভাবে রেকর্ড ভাঙতে পারে ফেব্রুয়ারির তাপমাত্রা!
রেকর্ড বলছে, চলতি সপ্তাহে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
Truth Of Bengal: সপ্তাহখানেক আগেও উত্তুরে হাওয়ার দাপটে জবুথবু অবস্থা ছিল শহরের। লেপ-কম্বল আর সোয়েটার ছাড়া চলাই যাচ্ছিল না। তবে সেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে তাপমাত্রা। চলতি বছরে ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষ কয়েক দিন এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভোর ও রাতের দিকে সামান্য শীতের অনুভূতি থাকলেও ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে সেই আমেজ অনেকটাই কমে যাবে।
রেকর্ড বলছে, চলতি সপ্তাহে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শুক্রবার আরও বৃদ্ধি পেয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মরশুমের স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.২ ডিগ্রি বেশি। অর্থাৎ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে রাতের তাপমাত্রা।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রাতেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৬ ডিগ্রি বেশি। জানুয়ারির শেষেই দিনের তাপমাত্রা প্রায় ২৭ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলায় উদ্বেগের কথা জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই দিনের তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েক দিন সকালে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা থাকলেও ধীরে ধীরে কুয়াশার প্রভাব কমবে। কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলাতেও সকালের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। উপকূল ও গাঙ্গেয় বঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তা থাকতে পারে ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রির আশেপাশে। দিনে শীতের অনুভূতি কম হলেও সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা শীত বজায় থাকবে।
উত্তরবঙ্গে আগামী পাঁচ দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। দার্জিলিং পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।
অন্য দিকে, রাজধানী দিল্লি-সহ উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমতলের রাজ্যগুলিতে শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশার প্রভাব বজায় থাকবে। পাঞ্জাব, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশে শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ওই অঞ্চলে নতুন করে আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।






