কলকাতা

ভোটের আগেই নিয়োগের তৎপরতা! গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করল SSC

স্কুল শিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমে নবান্নে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল

Truth of Bengal: রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষ কর্মপ্রার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদের লিখিত পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন। সম্প্রতি কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী মার্চ মাসের প্রথম দুই রবিবারে এই নিয়োগ পরীক্ষাগুলি সম্পন্ন হবে। প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই পরীক্ষার সূচি সাজানো হয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ মার্চ ক্লার্ক বা গ্রুপ সি পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরপরের রবিবার অর্থাৎ ৮ মার্চ আয়োজিত হবে গ্রুপ ডি পদের পরীক্ষা। উভয় দিনই দুপুর ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। মূলত বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বড় অংশ সেরে ফেলতে চাইছে রাজ্য সরকার। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমে নবান্নে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, যা বর্তমানে সবুজ সংকেত পেয়েছে।

শূন্যপদের নিরিখে আবেদনকারীর সংখ্যা এবার আকাশছোঁয়া। গ্রুপ সি-র ২৯৮৯টি পদের জন্য প্রায় ৮ লক্ষ প্রার্থী ময়দানে রয়েছেন। অন্যদিকে গ্রুপ ডি-র ৫৪৮৮টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে সাড় আট লক্ষেরও বেশি। বিপুল সংখ্যক এই পরীক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা করতে রাজ্যজুড়ে অন্তত দেড় হাজার পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রয়োজন হবে বলে মনে করছে এসএসসি কর্তৃপক্ষ। যদিও কেন্দ্র বিন্যাস নিয়ে এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি রয়েছে। পরীক্ষার সময়সীমার ক্ষেত্রে দুই পদের জন্য ভিন্ন নিয়ম রাখা হয়েছে। গ্রুপ সি বা ক্লার্ক পদের জন্য পরীক্ষার্থীরা সময় পাবেন দেড় ঘণ্টা। তবে গ্রুপ ডি পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় বরাদ্দ করা হয়েছে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। বিশেষ ভাবে সক্ষম বা দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা মিটে যাওয়ার পরেই এই বৃহৎ নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক ভাবে কমিশন থেকে ১ মার্চ এবং ১৫ মার্চ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও নবান্নের অনুমোদনের পর তা কিছুটা পরিবর্তিত হয়। শেষ পর্যন্ত ১ এবং ৮ মার্চ তারিখ দুটিকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও ভোটের আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া কঠিন, তবুও লিখিত পরীক্ষা মিটিয়ে ফেলে নিয়োগের পথে অনেকটা এগিয়ে থাকতে চাইছে কমিশন। অনেকটা মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষার মতোই কড়া নিরাপত্তায় এই পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।