রাজ্যের খবর

বিরল পশুর দেখা মিলল সিকিমে! ২ দশক পর ক্যামেরাবন্দি ‘মিশমি টাকিন’

এই প্রাণীর শরীরের ত্বক থেকে নিঃসৃত হয় এক বিশেষ তৈলাক্ত পদার্থ, যা এদের ঘন লোমযুক্ত চামড়াকে প্রাকৃতিক 'রেইনকোট'-এর মতো সুরক্ষা দেয়

Truth of Bengal: ভারতের জীববৈচিত্র্যর সাফল্যর মুকুটে যোগ হল নয়া পালক। হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে বাস করে বিরল, বিপন্ন প্রাণী ‘মিশমি টাকিন’। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীর দেখা মিলল সিকিমের পাহাড়ি জঙ্গলে। মিশমি টাকিন একটি আনগুলেট বা খুরযুক্ত প্রাণী। পাহাড়ি অঞ্চলে বসবস করে। শারীরিক গঠনের জন্য ‘গোট-অ্যান্টিলোপ’ বা ছাগ-কৃষ্ণসার মৃগ নামে পরিচিত। এদের শারীরিক গঠন অত্যন্ত মজবুত। এই প্রাণীর শরীরের ত্বক থেকে নিঃসৃত হয় এক বিশেষ তৈলাক্ত পদার্থ, যা এদের ঘন লোমযুক্ত চামড়াকে প্রাকৃতিক ‘রেইনকোট’-এর মতো সুরক্ষা দেয়। সে কারণে এরা তুষারপাত ও বৃষ্টির মধ্যেও হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বেঁচে থাকতে পারে।

সম্প্রতি উত্তর সিকিমের টিংদা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাকুচেন এলাকায় বন দফতরের কর্মীরা টহলদারির সময় ৮টি মিশমি টাকিনকে দেখতে পান। বনকর্মীদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে ৮টি মিশমি টাকিনের গতিবিধি। গত ২ দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় মিশমি টাকিনের উপস্থিতির এমন নিশ্চিত প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি ৷ ফলে এই ঘটনাটি বন্যপ্রাণী গবেষক ও বন দফতরের কর্মী ও আধিকারিকদের মনে বিশাল আশার সঞ্চার করেছে। আইইউসিএন-এর ‘লাল তালিকা’য় ভালনারেবল বা বিপন্ন প্রজাতি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত এই মিশমি টাকিন। অরুণাচল প্রদেশের মিশমি পাহাড়ের নামে এদের নামকরণ হয়েছে। সিকিমের বন দফতরের আধিকারিকদেরর মতে, ‘মিশমি টাকিনের ওই দলটি ছোট ছিল না। ৮টি মিশমি টাকিন একসঙ্গে ছিল। এত সংখ্যায় মিশমি টাকিনের উপস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওই এলাকাটিতে খাবার ও প্রজননের উপযোগী৷’

Related Articles