পুনর্বিবাহ করলেও মিলবে পেনশন! ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই আইনটি মূলত একটি সামাজিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপ।
Truth of Bengal: সরকারি চাকুরিজীবী স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী যদি পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তবে কি তিনি পারিবারিক পেনশন বা ফ্যামিলি পেনশন পাওয়ার অধিকারী থাকবেন? এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর আইনি প্রশ্নে এক ঐতিহাসিক রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সন্তানহীন বিধবা স্ত্রী পুনর্বিবাহ করলেও তাঁর পেনশনের অধিকার খর্ব হবে না। বিশেষত, যদি ওই মহিলার নিজস্ব বা পর্যাপ্ত আয়ের উৎস না থাকে, তবে তিনি নিয়ম মেনেই পেনশন পাবেন। বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি অমিত মহাজনের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭২ সালের সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিস (পেনশন) রুলসের ৫৪ নম্বর বিধির উল্লেখ করে এই রায় দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই আইনটি মূলত একটি সামাজিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপ। বিধবাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক সম্মান রক্ষা এবং নতুন করে জীবন শুরু করতে উৎসাহিত করতেই এই বিশেষ নিয়ম তৈরি করা হয়েছে।
মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল এক কর্মরত সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। স্বামীর মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী তাঁর স্ত্রী ফ্যামিলি পেনশন পাচ্ছিলেন। কিন্তু ওই মহিলা পুনরায় বিয়ে করার পর, মৃত জওয়ানের বৃদ্ধ বাবা-মা পেনশনের দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের যুক্তি ছিল, যেহেতু তাঁদের পুত্রবধূ নতুন সংসার পেতেছেন, তাই মৃত স্বামীর সঙ্গে তাঁর আইনি সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। পরিবর্তে, তাঁরা ছেলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন বলে বার্ধক্যে পেনশনের টাকা তাঁদের দেওয়া হোক। তাঁরা ১৯৭২ সালের সংশ্লিষ্ট পেনশন বিধির বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ জানান। আদালত এই দাবি খারিজ করে দিয়ে জানায়, ফ্যামিলি পেনশন কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নয়। এটি মূলত সরকারি কর্মীর পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম। ৫৪ নম্বর রুল অনুযায়ী, বিবাহিত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মীর মৃত্যু হলে প্রথম অগ্রাধিকার তাঁর স্ত্রী, বাবা-মা নন। ওই মহিলা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিনই তিনি এই আর্থিক সুবিধা পাবেন। এমনকি পুনর্বিবাহও এই অধিকারে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সরকারের এই পেনশন নীতি শুধুমাত্র একটি আর্থিক সাহায্য নয়, এটি একটি সামাজিক বার্তা। এটি বিধবাদের পুনর্বিবাহে উৎসাহিত করে তাঁদের জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আদালতের সাফ কথা, মৃত কর্মীর স্ত্রী বা সন্তান বর্তমান থাকলে কোনোভাবেই বাবা-মা সেই পেনশনের দাবিদার হতে পারবেন না। কেবলমাত্র স্ত্রী বা সন্তান না থাকলেই অভিভাবকরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। এই রায়ের ফলে পুনর্বিবাহ করা অগণিত বিধবার আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হল।






