পশ্চিমবঙ্গের পর এবার তামিলনাড়ু; ভোটার তালিকা সংশোধনে নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
নির্বাচন কমিশনকে এই তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, তালুক অফিস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থানে টাঙিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Truth of Bengal: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবার বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু-সহ দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে এই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে এই তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, তালুক অফিস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থানে টাঙিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এদিন তামিলনাড়ু সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের জন্য দেওয়া নির্দেশকেই মডেল হিসেবে তুলে ধরে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটাররা কেন ডাক পাচ্ছেন এবং তাঁদের কোন তথ্যে ভুল রয়েছে, তা জানার অধিকার তাঁদের রয়েছে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই তালিকা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র তামিলনাড়ু বা পশ্চিমবঙ্গ নয়, যে সমস্ত রাজ্যে বর্তমানে এই এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, সর্বত্রই নির্বাচন কমিশনকে এই একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
তামিলনাড়ুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ১৬ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য শুনানিতে তলব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আদালত একটি মানবিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেছে, শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটার যদি সশরীরে উপস্থিত হতে না পারেন, তবে তিনি প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি পাঠাতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে ওই প্রতিনিধির কাছে ভোটারের অনুমোদিত পরিচয়পত্র বা যথাযথ চিঠি থাকতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা।
পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সংশোধনের কাজে যাতে লোকবলের অভাব না হয় এবং সরকারি কর্মচারীদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ না পড়ে, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, এসআইআর চলাকালীন যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।






