Truth Of Bengal: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর চলমান নৃশংসতার ধারাবাহিকতায় আবারও এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। শরীয়তপুর জেলায় খোকন দাস (৫০) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার এই ঘটনায় খোকন দাসকে প্রথমে ছুরিকাঘাত ও মারধর করা হয় এবং পরে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পার্শ্ববর্তী পুকুরে ঝাঁপ দেন। এরপর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। শনিবার সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। নিহতের স্ত্রী এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন এবং কারও কোনো ক্ষতি করেননি।
গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর এটি চতুর্থ বড় ধরনের হামলার ঘটনা। এর আগে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নগ্ন করে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার খবর আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। শরীয়তপুরের তিলই গ্রামের এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ভারতেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
বাংলাদেশে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি-র মৃত্যুর পর থেকে। সেই ঘটনার পর দেশটিতে ব্যাপক ভারত-বিরোধী মনোভাব এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ভারত-পন্থী হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের অফিস এবং ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনগুলোর আশেপাশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে নিরাপত্তার খাতিরে ভারত বাংলাদেশে তাদের ভিসা কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, যার ঠিক আগেই দেশজুড়ে চলছে চরম অস্থিরতা ও রাজপথের সহিংসতা।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হবিগঞ্জ জেলার একজন ছাত্র সমন্বয়ক বুক ফুলিয়ে একজন হিন্দু পুলিশ অফিসারকে পুড়িয়ে মারার কথা স্বীকার করছেন। তিনি দম্ভের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তাঁরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং এসআই সন্তোষ ভাবু-কে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিলেন। এমনকি থানায় বসে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই তিনি আবারও থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অপরাধীর এমন নির্লিপ্ত ও নির্ভীক আচরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।






