Kashmir Winter: মাইনাস ৪ ডিগ্রিতে গুলমার্গ! বড়দিন ও বর্ষবরণে পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য এখন
অন্যদিকে গুলমার্গ ও পহলগামে পারদ নেমেছে যথাক্রমে মাইনাস ৪.২ এবং মাইনাস ২.২ ডিগ্রিতে।
Truth of Bengal: শীর্ষবিন্দু থেকে সমতল, উপত্যকার আবহাওয়া এখন খবরের শিরোনামে। বুধবার শ্রীনগর শহরের রাতের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের উপরে থাকলেও গুলমার্গ ও পহলগামের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে কনকনে ঠান্ডার দাপট শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীনগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে গুলমার্গ ও পহলগামে পারদ নেমেছে যথাক্রমে মাইনাস ৪.২ এবং মাইনাস ২.২ ডিগ্রিতে। জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে এই বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার মাঝেই আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জম্মু বিভাগে তাপমাত্রা তুলনামূলক কিছুটা বেশি। জম্মু শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া কাটরা, বাটোট এবং বানিহালে তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯.৪, ৪.২ এবং ৬.৪ ডিগ্রি। ভাদেরওয়াতে ঠান্ডার আমেজ বেশ তীব্র, সেখানে পারদ ঠেকেছে ০.৬ ডিগ্রিতে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, আকাশ পরিষ্কার থাকার কারণে রাতের তাপমাত্রা আগামী কয়েকদিনে আরও কয়েক ধাপ নামতে পারে। উল্লেখ্য যে, গত ২১ ডিসেম্বর থেকে কাশ্মীরে শুরু হয়েছে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার ৪০ দিনের বিশেষ পর্যায় চিল্লাই কালান। তবে এবার এই মরশুমের শুরুটা হয়েছে স্বস্তির তুষারপাতের মধ্য দিয়ে।
দীর্ঘ তিন মাসের শুকনো আবহাওয়া এবং বৃষ্টির অভাব উপত্যকাবাসীর জনজীবনে নাভিশ্বাস তুলেছিল। সর্দি-কাশি, ফ্লু এবং ফুসফুসজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি উচ্চ পার্বত্য এলাকায় তুষারপাত এবং সমতলে বৃষ্টির ফলে সেই দীর্ঘ খরা কাটল। এই বৃষ্টি কেবল রোগব্যাধি থেকে মুক্তি দেয়নি, বরং উপত্যকার পর্যটন শিল্পে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। হোটেল মালিক থেকে শুরু করে ট্যুর অপারেটররা এখন আশাবাদী যে, বড়দিন এবং নববর্ষের ছুটিতে গুলমার্গের মতো পাহাড়ের রানিদের কোলে ভিড় জমাবেন পর্যটকরা। স্কি প্রেমীদের কাছেও গুলমার্গ এখন স্বর্গরাজ্য হিসেবে প্রস্তুত।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাশ্মীরের জলাভূমিগুলোতে আসা পরিযায়ী পাখিরা এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি বৃষ্টির পর উপত্যকার সংরক্ষিত এলাকাগুলো থেকে বেরিয়ে এই পাখিদের খোলা মাঠ বা জলাভূমিতে খাবার খুঁজতে দেখা যাচ্ছে। সকাল এবং সন্ধ্যায় আকাশের নীল ক্যানভাসে এই পাখিদের ওড়াউড়ি এক অপূর্ব রঙের মেলা আর কলকাকলি তৈরি করছে, যা শতবর্ষ ধরে স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ। এই পরিযায়ী পাখিদের সুস্বাস্থ্যই কাশ্মীরের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, সঠিক যত্ন ও সতর্কতা বজায় রাখলে এই স্বর্গভূমির মহিমা চিরকাল অটুট থাকবে।






