ভারতের আকাশে অশনি সংকেত! দিল্লি বিমানবন্দর কি GPS স্পুফিংয়ের শিকার?
পাইলটরা কম্পাস এবং চোখের নজরের উপর নির্ভর করে ম্যানুয়াল নেভিগেশনে ভরসা করতে বাধ্য হন।
Truth Of Bengal: ভারতের আকাশে এক অনন্য এবং ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দেশের নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচলের উপর ‘GPS স্পুফিং’-এর ছায়া নেমে এসেছে। এটি এক ধরনের সাইবার হামলা, যেখানে নেভিগেশন সিস্টেমকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা বা ভুল স্যাটেলাইট সঙ্কেত পাঠানো হয়। সম্প্রতি দিল্লি বিমানবন্দরে এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে খবর এসেছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের কার্যালয় ইতিমধ্যেই এই গুরুতর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
গত সপ্তাহে দিল্লি বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC) সিস্টেমে ত্রুটির কারণে ৮০০-এর বেশি উড়ান ব্যাহত হয়। আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দর প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বেশ কিছু ফ্লাইটকে জয়পুর, লখনৌ সহ অন্যান্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দিতে হয়। তদন্তে জানা গেছে, এ ঘটনার কয়েক দিন আগে ATC সিস্টেমে নীরবে GPS স্পুফিং নামে এই সাইবার হামলা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ধরনের হামলায় নেভিগেশন সিস্টেমের কাছে ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পৌঁছে যায়, যার ফলে বিমানের আসল অবস্থান নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে বিমান চলাচলে তীব্র জট তৈরি হয়। পাইলটরা কম্পাস এবং চোখের নজরের উপর নির্ভর করে ম্যানুয়াল নেভিগেশনে ভরসা করতে বাধ্য হন। গ্রাউন্ডে থাকা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণকর্মীরাও জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এক কথায়, আকাশপথে যাত্রার নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। গত সপ্তাহে দিল্লির আকাশে থাকা পাইলটদের অভিযোগ অনুযায়ী, ৬০ নটিক্যাল-মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে তারা ভুল সঙ্কেত ও বিভ্রান্তিকর সতর্কতা পেয়েছেন।
গোয়েন্দাদের ধারণা, এটি কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং ভারতের আকাশসীমায় একটি সুপরিকল্পিত সাইবার হামলার প্রমাণ। NSA-এর কার্যালয়ের অধীনে ‘জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী’ (NCSC) নবীন কুমার সিং-এর নেতৃত্বে এই GPS স্পুফিংয়ের ঘটনার তদন্ত করা হবে।
যদি গোয়েন্দাদের সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হয়, তা হলে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার উপর এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হবে। আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক হামলার পথ উন্মুক্ত করে দিতে পারে।
সুতরাং, এই ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। না হলে ভারতের আকাশসীমা যে কোনও শত্রুর জন্য সহজ নিশানায় পরিণত হতে পারে, যা দেশের নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।






