কলকাতা

সারোগেসিতে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার সীমা কতটুকু? ঐতিহাসিক রায় হাই কোর্টের

আদালতের পর্যবেক্ষণ, ম্যাজিস্ট্রেটকে মূলত তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে

Truth of Bengal: সারোগেট মায়ের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট যাচাই করা বা সন্তান নিতে ইচ্ছুক দম্পতির বয়স খতিয়ে দেখা ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ নয়। তাঁর দায়িত্ব শুধু এটুকু নিশ্চিত করা যে, সংশ্লিষ্ট মহিলা স্বেচ্ছায় এবং কোনও চাপ বা প্রতারণা ছাড়াই সারোগেট মা হতে সম্মতি দিয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক দম্পতির মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট।বিচারপতি কৌশিক চন্দ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সারোগেসি আইনের অধীনে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সীমিত। আবেদনকারী দম্পতির বয়স, তাঁদের মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের বৈধতা অথবা সারোগেট মায়ের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বিচার করার এক্তিয়ার তাঁর নেই। এই বিষয়গুলি যাচাই করার জন্য আইনে পৃথক উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, ম্যাজিস্ট্রেটকে মূলত তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, সারোগেট মা নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না। দ্বিতীয়ত, তাঁর উপর কোনও জোরজবরদস্তি, প্রতারণা বা অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে তিনি জন্ম নেওয়া সন্তানের অভিভাবকত্ব দাবি করবেন না—এই শর্তে সম্মতি দিয়েছেন কি না। গত ২০ জুলাই সংশ্লিষ্ট মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। বিচারপতি নির্দেশ দেন, সাত দিনের মধ্যে দম্পতির আবেদন নতুন করে শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মামলার কারণে আবেদনকারীদের যে দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়েছে, সেটিও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

দম্পতির হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্লোল বসু ও আত্রেয় চক্রবর্তী। তাঁরা জানান, সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নিতে হলে প্রথমে জেলা মেডিক্যাল বোর্ডের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র সংগ্রহ করতে হয়। এরপর সন্তানের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনি অনুমতির জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হয়। এই মামলায় আবেদনকারী স্বামীর বয়স এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের কথা উল্লেখ করে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। ফলে দম্পতির আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আবেদনকারীদের দাবি, প্রায় দু’বছর ধরে মামলা চলার কারণেই তাঁদের শংসাপত্রগুলির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।

বিচারপতি চন্দ প্রশ্ন তোলেন, সারোগেসি আইনে ম্যাজিস্ট্রেটকে আদৌ এত বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কি না। আদালতের মতে, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বা আবেদনকারীদের বয়সের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা বোর্ড ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের। ম্যাজিস্ট্রেট সেই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা ওই দম্পতি সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার অনুমতি চেয়ে আলিপুর আদালতের অতিরিক্ত জেলা বিচারকের কাছে আবেদন করেছিলেন। তার আগে জেলা মেডিক্যাল বোর্ড থেকে প্রয়োজনীয় শংসাপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু দম্পতি ও সারোগেট মায়ের বিভিন্ন নথি যাচাই করে আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

হাই কোর্টের এই রায়ের ফলে সারোগেসি সংক্রান্ত মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা ও ক্ষমতার সীমা আরও স্পষ্ট হল। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের নথি যাচাইয়ের নামে আইনে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না বলেও জানিয়ে দিল আদালত।

Related Articles