“সেটিং করে যদি ৮ ঘণ্টা জেরা হয়, তবে না করাই ভালো!” ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে স্বভাবসিদ্ধ মেজাজে মদন
ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে পুরনিয়োগ দুর্নীতি, রাজনৈতিক শিবির বদল এবং রাজ্যের নতুন সরকার নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি
Truth of Bengal: টানা দ্বিতীয় দিন ইডির দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও প্রায় আট ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। দিনের শেষে ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে পুরনিয়োগ দুর্নীতি, রাজনৈতিক শিবির বদল এবং রাজ্যের নতুন সরকার নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। ইডির সঙ্গে বিজেপির ‘সেটিং’ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে মদন বলেন, “সেটিং করে যদি আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ হয়, তাহলে সেটিং না করাই ভালো। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়েছে।” তাঁর দাবি, তদন্তকারীরা যা জানতে চেয়েছেন, তার সব উত্তর দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছেন।
মদনের বক্তব্য, “ইডি আমার কাছে যে তথ্য ও কাগজ চেয়েছে, সব দিয়েছি। পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়েছি, আমি বা আমার পরিবারের কেউ পুরনিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি সরকারের প্রশংসা শোনা যায় তাঁর মুখে। মদন বলেন, “মানুষ যাকে ভালো দল বলে বেছে নিয়েছে, সেটি ভারতীয় জনতা পার্টি। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী।” সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন মদন। প্রায় ১৫ দিন আগে তাঁর এই রাজনৈতিক অবস্থান বদলের পরই একে একে ইডির দপ্তরে হাজিরা দেন তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। প্রথমে দুই ছেলে, পরে স্ত্রী অর্চনা মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর ২৯ জুলাই প্রথমবার ইডির সামনে হাজির হন মদন। বুধবার তাঁকে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ফের প্রায় আট ঘণ্টা ধরে তাঁর বক্তব্য ও জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা।
ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে মদন বলেন, “হ্যাঁ, এখন আমি ঋতব্রতদের সঙ্গে আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের ঘরগুলো খুব ছোট হয়ে গিয়েছিল। সেখানে নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না।” তাঁর এই মন্তব্যে তৃণমূলের পুরনো নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভই স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বীরভূমে টুলু মণ্ডল-ঘনিষ্ঠদের বাড়ি থেকে বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনা নিয়েও মুখ খোলেন মদন। তাঁর কটাক্ষ, “এটা কি প্রথম, নাকি শেষ? এটা তো দুর্নীতির একটা সিরিজ। যত খোঁড়া হচ্ছে, ততই বেরোচ্ছে—মহেঞ্জোদারো, হরপ্পার মতো।” মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী যদি দুর্নীতির কবর খুঁড়ে প্রতিদিন কয়েকশো কোটি টাকা উদ্ধার করতে পারেন, তাহলে আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাব।” তবে প্রশংসার মধ্যেও সরকারের বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম কটাক্ষ ছুড়ে দেন কামারহাটির বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকার কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযান চালালেও এখনও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেনি। মদন বলেন, “বীরভূমের ‘নোবেল’ এখনও পাওয়া যায়নি, তবে টুলুদের ধরা হচ্ছে। সরকারের হানিমুন পিরিয়ডে যে কাজ হচ্ছে, তাতে এখনও পর্যন্ত আমি খুশি।”





