খেলা

East Bengal Controversyসুপার কাপের আগে ইস্টবেঙ্গলে এই অশান্তি না হলেই মঙ্গল হত

আমি প্রথমেই বলি, সন্দীপকে আমি দীর্ঘদিন ধরেই চিনি শুধু নন, ও আমার অন্যতম ফেভারিট গোলরক্ষক ছিল।

দেবাশিষ মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন জাতীয় গোলরক্ষক: আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল ম্যাচে দেবজিৎ মজুমদারকে টাইব্রেকারের সময় নামানো নিয়ে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোর সঙ্গে মনোমালিন্য হয় তৎকালীন গোলরক্ষক সন্দীপ নন্দীর। এরপর সন্দীপ গোয়া থেকে সরাসরি কলকাতায় ফিরে আসেন। এবং কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ নানা বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় এখন শোরগোল ভারতীয় ফুটবল। যাই হোক এই ঘটনা নিয়ে আমারও কিছু বলার আছে, কেননা আমিও লাল-হলুদের একজন প্রাক্তন গোলরক্ষক।

আমি প্রথমেই বলি, সন্দীপকে আমি দীর্ঘদিন ধরেই চিনি শুধু নন, ও আমার অন্যতম ফেভারিট গোলরক্ষক ছিল। ছেলে হিসেবে সন্দীপ অত্যন্ত ভাল ছেলে এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে আমার মনে হয়েছে সন্দীপ ওই ঘটনার পর নিজের কাঁধে বলটা না নিয়ে কর্তা ও স্পনসরদের কোর্টেই ছেড়ে দিতে পারত। তাহলে আরও ভাল হত। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নিলে ও ভাল করত। কিন্তু তা না করেই সন্দীপ আবেগের বসে সবাইকে তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, এটা সন্দীপ না করলেই পারত বলে আমার মনে হয়।

এবার আসি যে ঘটনায় এত বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে, সেই ঘটনা নিয়ে। শিল্ডের ফাইনালে টাইব্রেকারের আগে অবধি ইস্টবেঙ্গল দলে গোলরক্ষার দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রভুসুখন সিং গিল। কিন্তু তারপরে সন্দীপ নাকি গিলের পরিবর্তে দেবজিৎকে নামানোর পরামর্শ দেন। সেটা সন্দীপের দেওয়াতে কোনও ভুল নেই। আমি আবারও বলছি, দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কোচের ওপর। কিন্তু অস্কার সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ম্যাচ হারের দায় সতীর্থ স্টাফদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া এটাও একেবারেই উচিত নয়। উনার উচিত ছিল, স্টাপোর্টস্টাফদের ঘাড়ে দোষ না চাপিয়ে সিদ্ধান্তটা আমাদের সকলের ছিল বললেই আর এত ঝামেলার সৃষ্টি হত না। পাশাপাশি এটাও বলছি, আমি কোচ হলে গিলকেই টাইব্রেকারের সময় রাখতাম। কেননা ও দীর্ঘক্ষণ মাঠে ছিল, তার ফলে মাঠের সঙ্গে ওর চোখ ও মন পুরো সেট হয়ে গিয়েছিল। এবং ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, আমি নিজের কাঁধেই তার সমস্ত দায় নিতাম। এবং পরে সন্দীপকে আলাদা করে বোঝাতাম পুরো ব্যাপারটা। কেন আমি তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। অস্কার সে পথে হাঁটেননি। হেঁটেছেন উল্টো পথে। তার ফলেই এত অশান্তি।

যাই হোক এখন আইএফএ শিল্ড অতীত। সামনেই সুপার কাপ। সুতরাং ডুরান্ডে ব্যর্থ হওয়ার পর সুপার কাপেই চোখ রয়েছে দলের। তার আগে এইরকম একটা পরিস্থিতি দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশে ব্যাঘাত ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে আমি চাইব, দল এইসব ভুলে এবার সুপার কাপে ট্রফি জয়ের দিকে নজর দিক। কেননা অনেকদিন ট্রফি জয়ের স্বাদ পায়নি লাল-হলুদ শিবির। গতবারের মত এবারও সুপার কাপ জিতে সেই অভিযানটাই শুরু করুক ইস্টবেঙ্গল।

Related Articles