Carbide Tragedy: কার্বাইড বিস্ফোরণে পুড়ছে শিশুদের রেটিনা, স্থায়ীভাবে অন্ধ হওয়ার আশঙ্কা
গত তিন দিনে রাজ্যজুড়ে ১২২ জনেরও বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশেরই চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
Truth of Bengal: আলোর উৎসবই পরিণত হল অন্ধকারে। দীপাবলির আনন্দ মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেশি খেলনা বন্দুক ‘কার্বাইড গান’-এর বিস্ফোরণে চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে অন্তত ১৪ শিশু, আহত হয়েছে শতাধিক। তাঁদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত তিন দিনে রাজ্যজুড়ে ১২২ জনেরও বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশেরই চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। শুধুমাত্র ভোপালের হামিদিয়া হাসপাতালে গত ৭২ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২৬ জন শিশু। ভোপাল, ইন্দোর, গোয়ালিয়র ও জব্বলপুরের হাসপাতালগুলিতে চক্ষু ওয়ার্ডে রোগীদের ভিড় বাড়তে থাকায় প্রশাসনের চিন্তা আরও গভীর হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপাবলির আগেই রাস্তার ধারে ও স্থানীয় মেলায় অবাধে বিক্রি হচ্ছিল এই বিপজ্জনক খেলনা বন্দুকগুলি, যেখানে কোনও নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি। লাগাতার অভিযোগ উঠতেই রাজ্য সরকার ১৮ অক্টোবর থেকে বিক্রি নিষিদ্ধ করে। তবুও বিদিশা জেলায় অবৈধ বিক্রির অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আর কে মিশ্র জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যারা এই বন্দুক বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনও বেআইনি বিক্রি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ।চিকিৎসকদের মতে, প্লাস্টিক বা টিনের পাইপে তৈরি এই কার্বাইড বন্দুকের ভিতরে বারুদ, দেশলাইয়ের কাঠি ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড ভরে আগুন দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের সময় প্রচণ্ড তাপে ধাতব টুকরো ও কার্বাইডের বাষ্প সরাসরি চোখে গিয়ে রেটিনা পুড়িয়ে দিচ্ছে। হামিদিয়া হাসপাতালের সিএমএইচও ডাঃ মনীশ শর্মা বলেন, ‘ আমরা এমন বহু শিশুকে পেয়েছি, যাদের চোখের স্নায়ু ফেটে গিয়েছে। ফলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে তারা।‘
চিকিৎসাধীন এক কিশোরী, নেহা, জানিয়েছে, “আমি কার্বাইড বন্দুক কিনেছিলাম, ওটা ফেটে যায়। আমার একটি চোখ সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। এখন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।” অপর এক কিশোর রাজ বিশ্বকর্মা বলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দেখে বাড়িতে বাজি বন্দুক বানাতে গিয়ে সেটি বিস্ফোরিত হয়।আলোর উৎসবে এমন ভয়াবহ অন্ধকার নেমে আসায় শোক ও আতঙ্কে ভুগছে সমগ্র মধ্যপ্রদেশ। চিকিৎসক ও প্রশাসনের একটাই অনুরোধ — এই ‘খেলনা বন্দুক’ যেন আর কোনও শিশুর হাতে না আসে, না হলে দীপাবলি হয়ে উঠবে স্থায়ী অন্ধকারের উৎসব।






