রাজ্যের খবর

হুইলচেয়ারে ৬২ কিলোমিটার পার করে ভাইদের ফোঁটা! বালুরঘাটে মন ভাল করা ঘটনা

ছাদে ঠাকুর পুজো করতে গিয়ে পা পিছলে পড়েছিলেন রমা। তারপর থেকেই কোমর থেকে পা পর্যন্ত অসাড়।

বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: বোনের চোখে জল, ভাইদের চোখেও। হুইলচেয়ারে বসেই ভাইফোঁটার থালা হাতে তুলে নিলেন রমা ভৌমিক চ্যাটার্জি। কোমর থেকে পা পর্যন্ত নিথর। কিন্তু মন? সে এখনও অদম্য, জীবনের কাছে হার মানে না। বালুরঘাট থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার দূরের ঠ্যাঙ্গাপাড়ার বাপেরবাড়িতে পৌঁছে পাঁচ ভাইকে ফোঁটা দিলেন তিনি।২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ছাদে ঠাকুর পুজো করতে গিয়ে পা পিছলে পড়েছিলেন রমা। তারপর থেকেই কোমর থেকে পা পর্যন্ত অসাড়।

চিকিৎসকরা বলেছিলেন, আর কোনওদিনও তিনি হাঁটতে পারবেন না। কিন্তু জীবনের কাছে হার মানেননি রমা। দীর্ঘ ফিজিওথেরাপি আর ইচ্ছাশক্তির জোরে হুইলচেয়ারে বসে এখন নিজেই রান্না, সেলাই করেন। সংসারে স্বামী শিবশংকর ও একমাত্র মেয়ে রূপমাই তাঁর ভরসা।বৃহস্পতিবার সকালে অটো করে বালুরঘাট থেকে রওনা দেন রমা, স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে। পৌঁছে যান ঠ্যাঙ্গাপাড়ার বাড়িতে। ভাই সমীরন ভৌমিক নিজে এসে কোলে তুলে বোনকে অটো থেকে নামিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান।

শঙ্খ, উলুধ্বনি, ধান-দুর্বা, মিষ্টি—সব মিলিয়ে শুরু হয় ভাইফোঁটার আনুষ্ঠানিকতা। বোনের কপালে ফোঁটা, ভাইদের মুখে হাসি, আর চোখে জল।চোখ ভিজে আসে রমারও। বলেন, এই দিনটা আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল। প্রতিবছরই আমি বাপেরবাড়ি এসে ভাইদের ফোঁটা দিই। এ বছরও সেই প্রতিশ্রুতি রাখলাম। রমার স্বামী শিবশংকর বলেন, ওর ভাইফোঁটা আমি থাকতে কখনও বন্ধ হতে দেব না।

যত কষ্টই হোক, ওর হাসিটাই আমার পুরস্কার।ভাই সমীরন ভৌমিক বলেন, আমার বোন আমাদের গর্ব। ও দেখিয়ে দিয়েছে—ইচ্ছাশক্তির জোরে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। ভাইফোঁটার পর সন্ধ্যায় আবার অটো করে ফেরেন রমা। চোখে জল, মুখে হাসি। পরদিন থেকেই আবার শুরু হবে জীবনের লড়াই, কিন্তু এই একদিন যেন রমার জীবনে একটু নতুন প্রাণ, একটু টাটকা অক্সিজেন।রোমার ভাইফোঁটা তাই শুধু একটা প্রথা নয়, জীবনের জেদ আর ভালোবাসার প্রতীক।

Related Articles