দূষণে ঢেকেছে দিল্লি, দীপাবলির আগে অশনি সংকেত
রবিবার সকালে আনন্দ বিহারের একিউআই ছিল ৪১৮, গাজিয়াবাদের বিজয় নগরে ৩০০, নয়ডায় ২৯৮, আর গুরুগ্রামে ২৫৮।
Truth Of Bengal: দীপাবলির আগেই রাজধানী দিল্লির আকাশ ঢেকে গিয়েছে ধোঁয়াশায়, বাতাসে ছড়াচ্ছে বিষ। শনিবারের তুলনায় রবিবার দিল্লি-এনসিআরের বাতাসের গুণমান আরও খারাপ হয়েছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ-এর পরিসংখ্যান বলছে, রবিবার সকালে দিল্লির অক্ষরধাম এলাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছুঁয়েছে ৪২৬, যা ‘ভয়ানক’ পর্যায়ের।
দিল্লির অন্যান্য এলাকাগুলির অবস্থাও একই রকম উদ্বেগজনক। রবিবার সকালে আনন্দ বিহারের একিউআই ছিল ৪১৮, গাজিয়াবাদের বিজয় নগরে ৩০০, নয়ডায় ২৯৮, আর গুরুগ্রামে ২৫৮। শনিবার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার একিউআই ছিল ২৫২, ওয়াজিরপুরে ৩৫১, জাহাঙ্গিরপুরী ও দ্বারকায় ৩১০, বিবেক বিহারে ৩০৬। শনিবার রাজধানীর গড় একিউআই ছিল ২৬৮, যা একদিনেই ভয়ানকভাবে বেড়ে গিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর থেকেই উত্তর ভারতে তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ুদূষণ। রবিবার সকালে রাজধানীর আকাশজুড়ে ছড়িয়েছে ঘন ধোঁয়াশা, দৃশ্যমানতাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।দিল্লির দূষণের বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে তিনটি বিষয়। প্রথমত, দিওয়ালির আগে বাজি পোড়ানো, দ্বিতীয়ত পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় ফসলের গোড়া পোড়ানো এবং তৃতীয়ত যানবাহনের ধোঁয়া।
সরকারি সূত্রের দাবি, শনিবার রাজধানীর মোট দূষণের ১৫ শতাংশেরও বেশি এসেছে যানবাহনের নির্গমন থেকে। সেই সঙ্গে পাঞ্জাব-হরিয়ানায় ফসল কাটার পর খড় পোড়ানোর প্রভাবও পড়ছে রাজধানীর বায়ুমণ্ডলে।এদিকে দীপাবলিকে সামনে রেখে দূষণ আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদেরা। কারণ, এ বছর সুপ্রিম কোর্ট সবুজ আতশবাজির উৎপাদন ও বিক্রিতে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে বাজি পোড়ানোর অনুমতি রয়েছে।ফলে শনিবার থেকেই দিল্লির আকাশে বাজির ধোঁয়া মিশতে শুরু করেছে, যা রবিবারের একিউআই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের তরফে ইন্ডিয়া গেট-সহ একাধিক এলাকায় রাস্তায় জল ছিটানো হয়েছে। তবে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। দিনের তাপমাত্রা থাকছে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের ১৯ ডিগ্রির কাছাকাছি। ফলে দূষণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাই প্রবল।সব মিলিয়ে, দীপাবলির আলোর উৎসবের আগেই ‘ধোঁয়ার চাদরে’ মোড়া রাজধানী দিল্লি এখন দমবন্ধ পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।






