কলেজের কাছেই নেশার ঠেক, টেনেহিঁচরে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ! দুর্গাপুরকাণ্ডে কী বলছে পুলিশ?
অতীতে সেখানে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পুরোপুরি ঠেক বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সেই ঠেকে এখনও রয়েছে।
Truth Of Bengal: সম্প্রতি সামনে এসেছে দুর্গাপুরের চিকিৎসক পড়ুয়ার ধর্ষণের নিন্দনীয় ঘটনা। ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল সে রাতে? কী কী উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে?
ঘটনাস্থল থেকে কলেজ ক্যাম্পাসের দূরত্ব ৭০০ মিটারের আশেপাশে। কাছাকাছিই একটি ঝোপজঙ্গল রয়েছে। সেখানে হয়তো নিয়মিত বসত মদ-গাঁঝার ঠেক। ঘটনার দিনও বসেছিল বলে খবর। ধৃতরা সেই ঠেকেই বসে মাদক সেবন করছিল। রাস্তায় তরুণী ও তাঁর সহপাঠীকে দেখে ডাক্তারি ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন ধৃতরা। তাঁরপর যুবতীকে টেনেহিঁচরে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়েছে আগে গ্রেফতার হওয়া তিন জনকে, যাদের বিরুদ্ধে ডাক্তারি ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারক তাদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের সময় ছাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ধৃতদের কাছ থেকে ওই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের আশপাশে একটি জঙ্গল রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মদ ও গাঁজার ঠেক বসে। অতীতে সেখানে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পুরোপুরি ঠেক বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সেই ঠেকে এখনও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তায় তরুণী ও তার বন্ধুকে দেখে তারা উত্ত্যক্ত করা শুরু করে এবং সহপাঠীকে হুমকি দেওয়া হয়। তরুণী পালিয়ে গিয়ে একা থাকাকালে তাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সহপাঠীকে পালিয়ে যেতে দেখে তরুণী তার কলেজের বন্ধুদের ফোন করেন। পরে ওই বন্ধুরা ‘নির্যাতিতাকে’ ঘটনাস্থলে ফিরে যেতে বলেন। অভিযোগ প্রকাশিত হলে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং মোবাইলের ‘লোকেশন ট্র্যাকিং’-এর মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত তিনজনের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন ছিল, যাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, নেশার ঠেক থেকে কয়েকজনকে আটক করার পর সহপাঠীর সামনে হাজির করা হয়। তিন জনকে তিনি চিহ্নিত করেছেন, পরে ‘নির্যাতিতাও’ তাদের চিহ্নিত করেছেন।
এদিকে, তরুণীর বাবা সহপাঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ছাত্রই তার মেয়েকে ভুল বোঝিয়ে বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ধৃত তিন জন ওই ছাত্রের বন্ধু বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্যাতিতার বাবা রবিবার বলেন, ‘‘রাত ১০টায় ওর বন্ধু (মেয়ের বন্ধু) ফোন করে জানায়, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওর এক বন্ধু ওকে খেতে নিয়ে গিয়েছিল বাইরে। কিন্তু যখন দু’-তিন জন ওকে (মেয়েকে) ঘিরে ধরে, তখন ওর বন্ধুটি পালিয়ে যায় ওকে ছেড়ে। রাত ৮-৯টার মধ্যে ঘটনাটা ঘটেছে। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। কোনও ব্যবস্থাই নেই এখানে।’’
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে তরুণী সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বের হন। পরে রাত ৮টা ৪২ মিনিটে সহপাঠী একা ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। কলেজ গেটের কাছে তিনি প্রায় ৫–৬ মিনিট ঘোরাঘুরি করার পর পুনরায় বাইরে বের হন। রাত ৯টা ২৯ মিনিটে তরুণী সহপাঠীর সঙ্গে আবার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং রাত ৯টা ৩১ মিনিটে তিনি হস্টেলের দিকে চলে যান।






