আন্তর্জাতিক

বিজ্ঞানবিরোধী নীতিতে বিপর্যয়ের মুখে আমেরিকার গবেষণা, সতর্কবার্তা নোবেল কমিটির

তাঁরা আরও মনে করেন, গবেষণায় এই ধরনের বড়সড় আর্থিক সংকোচন দ্রুতই ‘মগজের স্রোত’ বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’-এর জন্ম দিতে পারে।

Truth Of Bengal: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান ও গবেষণার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে, আর সেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুইডেনের নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে গবেষণাখাতে ব্যাপক কাটছাঁট, একাডেমিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং বিজ্ঞানীদের গণহারে ছাঁটাইয়ের ফলে আমেরিকার বহু দশকের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন নোবেল কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।(Science Crisis)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল—তাদের উদার গবেষণা তহবিল এবং একাডেমিক স্বাধীনতার কারণেই। নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের সেক্রেটারি জেনারেল হ্যান্স এলেগ্রেন বলেন, এই নেতৃত্ব যদি এখন আর্থিক সংকোচনের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা বিশ্বের গবেষণাক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। (Science Crisis)

চলতি বছরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ (NIH) প্রায় ২,১০০টি গবেষণা অনুদান বাতিল করেছে, যার মূল্য প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার। বন্ধ করা হয়েছে আরও ২.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। এইসব গবেষণা প্রকল্পের মধ্যে ছিল জলবায়ু পরিবর্তন, লিঙ্গবৈষম্য, আলঝেইমারস এবং ক্যান্সার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। নোবেল মেডিসিন কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল থমাস পার্লম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে গবেষণার ধারাবাহিকতা ও গুণগত মান নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।(Science Crisis)

তাঁরা আরও মনে করেন, গবেষণায় এই ধরনের বড়সড় আর্থিক সংকোচন দ্রুতই ‘মগজের স্রোত’ বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’-এর জন্ম দিতে পারে। অনেক প্রতিভাবান গবেষক হয়তো আমেরিকা ছাড়তে বাধ্য হবেন, অথবা গবেষণাক্ষেত্রই ছেড়ে দেবেন। তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ হারানোরও আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এই অবস্থায় অন্যান্য দেশ, বিশেষত চীন, সুযোগ নিচ্ছে বৈশ্বিক নেতৃত্ব গ্রহণের। কারণ চীন বর্তমানে গবেষণায় বিপুল বিনিয়োগ করছে।

এই সংকটের ফলে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক গবেষণাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা মূলত বিশ্বব্যাপী একটি যৌথ প্রচেষ্টা, যেখানে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একের পর এক রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী নীতির কারণে সেই বিনিময় ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উদ্ভাবন ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে বাঁধাগ্রস্ত করতে পারে।

নোবেল কর্তৃপক্ষ ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও অর্থনীতির সফলতা এসেছে গবেষণায় বিনিয়োগ এবং স্বাধীন চিন্তাভাবনার সুযোগ থেকে। এই ঐতিহ্য যদি ধ্বংস হয়, তবে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা বিশ্বকেই পিছিয়ে দিতে পারে।