কলকাতা

দক্ষিণদাড়ি ইয়ুথসে অ্যাসিড আক্রান্তদের কথা তুলে ধরছেন শিল্পী অনির্বাণ

কখনো বা সতীত্বের জ্বলন্ত চিতা লোলুপ অপেক্ষা করেছে নারীশরীরের।

Truth Of Bengal: মা দুর্গা সর্বশক্তিস্বরূপা। আমরা দেবীর আরাধনা করি আবার নারীদের ওপরই নিরন্তর চলে অত্যাচার। তা সে মানসিক নির্যাতন হোক কিংবা শারীরিক নিগ্রহর ঘটনা। সীতাকেও দিতে হয়েছিল অগ্নিপরীক্ষা। তাতে তাঁর দেহ জ্বলেনি, কিন্তু আত্মসম্ভ্রম? মহাকাব্যে, পুরাণে, ইতিহাসে বারবার নানাভাবে জ্বলে-পুড়ে খাক হয়েছেন নারীরা। কেউ দ্রৌপদীর মতো অপমানের আগুনে জ্বলেছেন। কখনো বা সতীত্বের জ্বলন্ত চিতা লোলুপ অপেক্ষা করেছে নারীশরীরের। কখনো বা ডাইনি সন্দেহে তাঁদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আধুনিক সময়ও পরিস্থিতি এতটুকু বদলায়নি।

আরও পড়ুনঃ India Pakistan Match: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা, দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ

দহনের নতুন রূপ সামনে এসেছে। অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হাজার হাজার মেয়ের মুখ। শুধু মুখ নয়, গোটা অস্তিত্বই। অ্যাসিড আক্রান্তদের অ্যাসিড-ঝলসানো বীভৎস মুখগুলো যেন হয়ে উঠেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আয়না। আবহমান নিষ্ঠুর ইতিহাস সেই আয়নায় নিজেরই মুখ দেখছে। দক্ষিণদাড়িতে এবার অ্যাসিড আক্রান্তদের কথাই তুলে ধরবেন শিল্পী অনির্বাণ।

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

কবি শ্রীজাতর লেখা কবিতার উল্লেখ করে বলতে হয়, “দাহ মুছে যাক। দহন জাগুক দাগে।
মহীরুহ গেলে নতজানু হয় ঝড়ও।
ছাই উড়ে যেতে এক মুহূর্ত লাগে।
তোমার আগুন, আকাশের চেয়ে বড়…”
শিল্পী অনির্বাণের কথায়, ‘পুজোর ২৫ বছরে দক্ষিণদাড়ি ইয়ুথসের মণ্ডপভাবনা হল ‘দহন’। যে-দহন আবহমান। আবার যে-দহন প্রতিরোধের ভাষাও নির্মাণ করছে। যে ভাষ্যের কেন্দ্রে অধিষ্ঠাত্রী স্বয়ং মা দুর্গা।’

হঠাৎ এমন থিম কেন বেছে নেওয়া হল? অনির্বাণ জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ‘আমাদের দেশে গড়ে প্রতিবছর ২০০-৩০০টি অ্যাসিড আক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। কমবেশি ৯৫% ঘটনায় অভিযুক্তের সাজা হয় না। ২০০০-২০১৬ সালের মধ্যে পুড়িয়ে মারা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে। যার সিংহভাগই নারী। দেশ জুড়ে প্রতি ঘণ্টায় ঘটছে ৮৬টি ধর্ষণের ঘটনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো বাল্যবিবাহ, নারী পাচার, শিশু-পাচার, গার্হস্থ্য হিংসার মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। পণের দাবিতে কেরোসিন ঢেলে নববধূকে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এর বাইরেও বহুবিধ অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন নারীরা। দহন তো রূপক মাত্র। কখনো তা শরীর পোড়ায়, কখনো অন্তরমহল। কিন্তু এতকিছুর পরও আশার আলো আছে। নারী পিছিয়ে আসছে না।

মানবসভ্যতার ইতিহাস দহনেরও ইতিহাস। দহন পরবর্তী ছাইভস্ম থেকেই ফের উড়তে শিখেছেন নাছোড় ও দুঃসাহসী নারীরা। কন্যা রূপে, দেবী রূপে সর্বভূতে বিরাজমান থেকেছেন মা দুর্গা। এক অর্থে দেখলে, সমস্ত দহন তো শক্তিরূপময়ী মা দুর্গারই। তাঁরই তেজে তেজোদৃপ্ত হয়ে উঠেছেন কোটি কোটি মানবী দুর্গা। তাঁদের সমবেত দহন আর প্রতিস্পর্ধার সংকেতই যেন নির্মাণ করেছে নারীত্বের অধুনা সংজ্ঞা।’

Related Articles