সম্পাদকীয়

India Poverty: গড়কড়ি দারিদ্র নিয়ে যথার্থই বলেছেন: ‘মন কি বাত’ নয়, মোদিজি সত্যিটা বলুন

Commentary on India's poverty debate: Nitin Gadkari flags rising poverty and wealth concentration, challenging NITI Aayog claim of 249M lifted.

ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক): গত লোকসভা নির্বাচনের মুহূর্তে নীতি আয়োগ দাবি করেছিল নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দশ বছরে ২৪.৯ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা (India Poverty) থেকে বেরিয়ে এসেছেন। আর এই কৃতিত্বকে সামনে রেখেই চলে বিজেপির প্রচার। মোদিজির ৫৬ ইঞ্চি বুকের ছাতি দু’ইঞ্চি বেড়ে যায়। ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ এটা যে ডাহা মিথ্যা তা কার্যত সামনে নিয়ে এলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা নীতিন গড়কড়ি।

সম্প্রতি নাগপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিজেপির এই বরিষ্ঠ নেতা তথা কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির খোলামেলা বক্তব্যে সত্যিটা উঠে এসেছে। তিনি রাখঢাক না করে নীতি আয়োগের তথ্য ও দাবিকে নসাৎ করে দিয়েছেন। বলেছেন, দেশে ধীরে ধীরে গরীব মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এবং মুষ্টিমেয় ধনী ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে সম্পদ। এটা বাঞ্ছনীয় নয়। তিনি যথার্থই বলেছেন। আমরা তো জানি, নীরব মোদি, মেহুল চোকসির মতো শিল্পপতিরা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাঙ্ক লুঠ করেছে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন আদানীর মতো শিল্পপতিরা।

এইসব শিল্পপতিরা ঘনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। এই অভিযোগ বারবার ওঠে আবার এরা দেশছেড়ে পালায় (India Poverty) । কিন্তু কিভাবে, কারা এদের পালাতে সাহায্য করে? প্রশ্ন তো উঠবেই। টাকা কাদের? জনগনের। কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, মানুষ জানতে পেরেছে? এক কথায় না। শুধু মাত্র নীরব মোদির হাতানো টাকার পরিমানই ১৩০০ কোটি। সিবিআই কী করলো? কিছু করতে পারল কী? কী করে করবে? তাঁরা কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে? রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তাদের হাত পা তো বাঁধা, তাই না?

চিটফান্ড মালিক সুদীপ্ত সেনকে কাশ্মীর থেকে ধরে আনতে পেরেছিল বাংলার পুলিশ বাংলার প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকার কেন পারলো না নীরব মোদির মতো প্রতারককে শিল্পপতিকে বিদেশ থেকে ধরে আনতে? ডাল মে কুছ তো কালা হ্যায়। দেশের টাকা লুঠ হবে, দেশের প্রধান ঠাণ্ডা ঘরে নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমাবেন আরাম সয্যায়, তাতে গরির আরও গরিব হবে, কোটিপতির আরও শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু তো নেই। কোভিড ও লকডাউনে যত মৃত্যু হয়েছে, তার থেকেও সারা দেশ বেশি মৃত্যু হয়েছে অনাহারে। সেই সময় মানুষ দেখেছ গরিব সাধারণ মানুষের দুর্দশা। পরিযায়ী শ্রমিকদের করুন ছবিটা বারবার সামনে উঠে এসেছিল।

সারা দেশ দেখেছে পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষুধার্ত (India Poverty) ক্লান্ত হয়ে রেললাইন ধরে হেঁটে আসতে। ট্রেনে কেটে বে-ঘোরে প্রাণ দিয়েছেন বহু পরিযায়ী। বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলোর সরকার তাঁদের জন্য খাদ্য, পানীয়, পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এই হচ্ছে আচ্ছে দিনের নমুনা। সেই সময় দেশের অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন মানুষের হাতে নগদ টাকা প্রদানের কথা। প্রয়োজন ছিল বিনামূল্যে রেশনের। সেটা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করতে পেরেছিলেন। আর আচ্ছে দিনের সূচনাকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থালা বাজাতে বলেছিলেন।

তাঁর পারিষদরা বললেন গোবর খাওয়ার কথা। দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে কখনও দারিদ্রতা দূরীকরণের (India Poverty) কোনও নিদান নেই, নেই কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ। আর যেটুক আছে তা লোক দেখানো মিডিয়ার সামনে প্রচার। ১০০ দিনের কাজ তাও গতানুগতিক, সেখানে হাজারও নিয়মকানুন। তবে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে অনেক ছাড় রয়েছে। দুর্নীতি হলেও পদক্ষেপ নয়। আর বাংলার কথা তো সহ্যই করতে পারেন না মোদিজি, তাই ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ হয় এই বাংলায়। গরিব মানুষ ১০০ দিনের কাজ করেও কেন্দ্রের কাছ থেকে টাকা পাননি। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গরিব মানুষের জন্য ৫০ দিনের কাজ নিশ্চিত করেছে। আদালতের রায়কেও শুরুত্ব দিচ্ছে না মোদিজির সরকার। গরিবদের রুটিরুজি নিয়েও রাজনীতি করা হচ্ছে।

‘আচ্ছে দিন’ বা ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ শুধুমাত্র কথার কথা হয়েই ভোট প্রচারে গল্পের গরু গাছে তুলছেন। দেশে ৭০ শতাংশ কৃষিজীবি মোদিজির আমলে সব থেকে বেশি উপেক্ষিত। রাসায়নিক সার, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক সার সহ কৃষি সরঞ্জামের ভর্তুকির ক্ষেত্রে সরকার একেবারেই উদাসীন। বীজ, সার, ওষুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকরা আজ ধনে-প্রাণে মরছেন। অর্থনৈতিক পরিকাঠামোতে দেশ তলানিতে। মোদিজির আমলে কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে দেশে। তবুও নির্বিকার কেন্দ্র, তবুও মোদিজির ভাঙা ক্যাসেট, ‘আপকা সাথ, আপকা বিকাশ, ‘মন কি বাত’। যে ‘মন কি বাত’এ শুধু তাঁর নিজের কথা, নিজের চাপানো জ্ঞান, কারও প্রশ্নের উত্তর নয়। যেখানে শুধু মিথ্যাচার আর মিথ্যা, সাজানো, গোছালো মনগড়া বোকা বানানোর গল্প।

বড় দেরিতে হলেও সেখানে নীতিন গড়কড়ির মতো নেতা চক্রব্যূহের মধ্যে থেকেও সহজ সত্যি কথাটা বলতে সক্ষম হয়েছেন। তিান বিজেপির সাজানো মিথ্যার হাটে দাঁড়িয়ে হাঁড়ি ভেঙেছেন। তিনি যথার্থই সত্যিটা বলেছেন। তাঁর সাহস আছে বলতে হবে। যা মোদিজির নেই। তিনি সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পান, ৫৬ ইঞ্চি ছাতির গর্ব তিনি যতই করুন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সীমিত ক্ষমতার মধ্যে থেকেও রাজ্যের মানুষকে দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। বাংলার মানুষ যাতে মাছে ভাতে, দুধে ভাতে থাকেন তার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছেন।

কর্মশ্রী প্রকল্প থেকে মহিলাদের স্বনিযুক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে সকলের রোজগার বৃদ্ধিতে সক্ষম হয়েছেন। বেড়েছে কর্মসংস্থানও। স্বভাবতই পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার জাতীয় হারের চেয়ে কম। আর্থিক উন্নয়ন ও কর্ম-সংস্থানে এগিয়ে বাংলা। ২০১৭-১৮ ও ২০২৩-২৪ এর কেন্দ্রীয় সরকারের-ই রিপোর্টে এই তথ্য। তাহলে মোদিজি পারেন না? তাঁর এতবড় সাম্রাজ্য, আয়ের উৎসও অনেক গুন বেশি, কিন্তু হবেনা? সদিচ্ছা ও পরিকল্পনার অভাব, তাই দেশ পিছোবে এটাই স্বাভাবিক। তাই দারিদ্র্যতা বাড়বে, গরিব আরও গরিব হবে, তবুও মোদিজি চোখ খুলবেন না। হবেন না সত্যের মুখোমুখি। সেই স্বভাবসিদ্ধ ভাষায় বলবেন ‘মন কি বাত’।

Related Articles