জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবনের ক্ষয় ও ক্ষতির নিরীক্ষা: একটি আর্থসামাজিক বিশ্লেষণ
Assess climate change impacts, erosion, salinity, cyclones & migration in the Sundarbans.
ড. রাম কৃষ্ণ সেন: সুন্দরবন (Sundarbans Climate) দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনন্য ও সংকটাপন্ন উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মধ্যে প্রায় ১০,২০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে (World Bank, 2020) বিস্তৃত আছে। এখানকার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ দরিদ্র। তাঁরা কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙন এই অঞ্চলের ভৌগোলিক ও সামাজিক কাঠামোকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
[আরও পড়ুন: Horoscope: লক্ষ্মীবারে আর্থিক চাপ! কী বলছে সিদ্ধিদাতার গণনা]
এই প্রবন্ধে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি, এর কারণ, প্রভাব ও সম্ভাব্য প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ২০১৫-১৬ সালের মধ্যে সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৪৫১ বর্গকিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে (Zerocarbon Analytics, 2022)। এখানকার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আন্তজার্তিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ হারে বাড়ছে, অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় ৩ সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে (The Diplomat, 2020)। এই হারে চলতে থাকলে আগামী ৫০-১০০ বছরের মধ্যে একাধিক দ্বীপ সম্পূর্ণরূপে জলের নিচে চলে যাবে।
ইতোমধ্যে ভারতের ঘোড়ামারা, লোহাছড়া ও বেডফোর্ড দ্বীপ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হযে গেছে (Bhattacharyya, 2019)। লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষি জমি অনুৎপাদনশীল হয়ে পড়েছে। ১৯৮৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মাটির লবণাক্ততা ৬ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে (Haque et al., 2018)। ভারতের মাটির গুণমান পরীক্ষায় দেখা গেছে, বহু এলাকায় লবণাক্ততা এতটাই বেড়েছে যে ৫০টির মধ্যে ১৭টি পানীয় জলের কূপ মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুপযুক্ত (World Bank, 2020)। এর প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের উপর-বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবর্তী নারীদের মধ্যে জলশূন্যতা, রক্তাল্পতা এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে (Sundarbans Climate)।
সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব উভয়ই বেড়ে চলেছে। ১৯৮১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে (Islam & Peterson, 2009)। ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’-এ ভারতীয় সুন্দরবনে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয় এবং ২৮ শতাংশ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয় (The Hindu, 2020)। একই সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন (UNHCR, 2020)। সুন্দরবনের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার কৃষি, মৎস্য ও বনজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল (World Bank, 2015)। লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও ম্যানগ্রোভ ক্ষয়ের ফলে মাছ ও মধু সংগ্রহ কমে গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতীয় সুন্দরবনের ৬২ শতাংশ মানুষ তাদের মূল জীবিকা হারিয়েছেন (Roy & Guha, 2016)। অনেক পরিবার অভ্যন্তরীণ অভিবাসনে বাধ্য হচ্ছে, বিশেষ করে তরুণরা শ্রমিক হিসেবে শহরে চলে যাচ্ছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, সুন্দরবনের ৬০ শতাংশ কর্মক্ষম পুরুষ পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন (Nature India, 2015)। পরিবেশগত উদ্বাস্তু বর্তমান বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার প্রসার ও ভূমির ক্ষয়-এই সমস্ত কারণেই বিপুল সংখ্যক মানুষ বিশ্বজুড়ে তাঁদের আবাসস্থল ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এই সংকটের অন্যতম প্রধান উদাহরণ। গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত এই জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ভূখণ্ডে বসবাসকারী লক্ষাধিক মানুষ এখন জলবায়ু-পরিবর্তনজনিত বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মূলত– আয়লা, আমফান, ইয়াস, বুলবুল-এর মতো ঘূর্ণিঝড় ও তৎসংলগ্ন বন্যা এবং সমুদ্রের লবণাক্ত জল প্রবেশ করে কৃষিজমিকে অনাবাদি করে ফেলার ফলে এই অঞ্চলের মানুষের কৃষি ও মৎস্যনির্ভর জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (Sundarbans Climate)।
নদীভাঙনের ফলে বহু পরিবার স্থায়ী আবাস হারিয়ে বাধ্য হয়েছেন বাঁধ, খোলা জায়গা কিংবা শহরতলির বস্তিতে আশ্রয় নিতে। সুন্দরবনের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর, গোসাবা, পাথরপ্রতিমা, বাসন্তী, নামখানা, কুলতলি প্রভৃতি ব্লকের বাসিন্দাদের অনেকেই এই ধরনের পরিবেশগত উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন। অথচ আজও তাঁরা ভারত সরকারের কাছে বা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে উদ্বাস্তু হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদ অনুযায়ী শুধুমাত্র রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে দেশান্তরিত ব্যক্তিদেরই ‘উদ্বাস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হয়, ফলে জলবায়ু-কারণে স্থানান্তরিত জনগোষ্ঠী সেই স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত থাকেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলে এই সংকটকে ঘিরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি (UNFCCC) ও জলবায়ু সম্মেলনগুলিতে Loss and Damage Fund গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে COP28 সম্মেলনে উন্নয়নশীল ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি IOM (International Organization for Migration), UNDP ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক NGO সুন্দরবনের মতো অঞ্চলে পুনর্বাসন, বিকল্প জীবিকা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রকল্প চালাচ্ছে।
তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালে আয়লার এক দশক পর দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আয়লাপীড়িত অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এক লক্ষের বেশি ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত TERI-র রিপোর্ট অনুসারে সুন্দরবনের ১২টি দ্বীপের মধ্যে অন্তত তিনটি দ্বীপ আগামী দুই দশকের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উপকূলবর্তী পরিবারের প্রায় ৩৮ শতাংশ কৃষিভিত্তিক জীবিকা হারিয়েছে শুধুমাত্র লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে। এই বাস্তবতায় সুন্দরবনের পরিবেশগত উদ্বাস্তুদের প্রধান সমস্যা হল আবাসের অনিশ্চয়তা, জীবিকার অভাব, স্বাস্থ্য সংকট ও নারীদের প্রতি সহিংসতা ও পাচারের ঝুঁকি। অধিকাংশ পরিবার সরকারের পুনর্বাসন নীতির আওতায় পড়েন না কারণ তাঁদের আইনি কোনও স্বীকৃতি নেই (Sundarbans Climate)।
অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুর বা শহর অভিমুখী অভিবাসনে বাধ্য হচ্ছেন। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা ছেড়ে শ্রমিক বা গৃহকর্মীর কাজে যুক্ত হচ্ছে, যার ফলে একটি গোটা প্রজন্ম ঝুঁকিতে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়েই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, ভারত সরকারের উচিত একটি জলবায়ু অভিবাসননীতি প্রণয়ন, যেখানে পরিবেশগত বাস্তুচ্যুতদের আইনি স্বীকৃতি, জমি ও গৃহস্থালির পুনর্বিন্যাস এবং বিকল্প জীবিকার নিশ্চয়তা থাকবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে Loss and Damage Fund-এর অর্থ পরিবেশগত উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয়ত, স্থানীয় পরিবেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ-যেমন ম্যানগ্রোভ বন পুনরোপণ, বাঁধ মেরামত, লবণপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল (Sustainable) সমাধান দিতে পারে।
পাশাপাশি মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুনর্গঠন ও যুবশক্তিকে বিকল্প পেশায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুক্ত করাও প্রয়োজন। সুন্দরবনের পরিবেশগত উদ্বান্ত সমস্যাটি নিছক কোনও এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়; এটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ ও ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত না করা গেলে, এই সংকট কেবল সুন্দরবনের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। এখন সময় এসেছে, যখন এই অদৃশ্য উদ্বাস্তুদের দৃশ্যমান করে, তাঁদের প্রতি মানবিকতা ও ন্যায়ের আলো ফেলতে হবে-নীতিতে, কর্মে এবং বৈশ্বিক সহযোগিতায় (Sundarbans Climate)।
সুন্দরবন অঞ্চলের আর একটি বড় সমস্যা হল হিংস্র পশুর আক্রমণ। বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বহু যুবক ও পৌঢ় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণে নিহত হন। এতে অনেক নারী অল্প বয়সে স্বামী হারিয়ে ‘বৈধব্য’ নামক সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হন (The Hindu, 2024)1 সামাজিক লাঞ্ছনা, সরকারি সহায়তার অভাব এবং কাজের সীমাবদ্ধতায় তারা অত্যন্ত অনগ্রসর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীরা হয়ে উঠেছেন সবচেযে বিপন্ন শ্রেণির প্রতিনিধি। বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন অঞ্চল যথাক্রমে ১৯৯৭ ও ১৯৮৭সালে UNESCO World Heritage Site হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাস্তবিক সংরক্ষণ কার্যকর হয়নি। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় ‘Loss and Damage’ তহবিল গঠনের কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত সুন্দরবনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও সহায়তা বরাদ্দ হয়নি (UNFCCC, 2022)।
সুন্দরবনের সংকট কেবল জলবায়ু সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের অভাবের প্রতিচ্ছবি। ক্ষয় ও ক্ষতির আর্থিক বোঝা যাদের সৃষ্ট নয়, তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবিচারস্বরূপ। সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে চাই আন্তর্জাতিক ‘Loss and Damage’ তহবিল থেকে সরাসরি অর্থায়ন, স্বায়ী পুনর্বাসন, লবণ-সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি, এবং নারী-কেন্দ্রিক জীবিকা উন্নয়ন। প্রযোজনে ‘পরিকল্পিত পশ্চাদপসরণ’ কৌশল নিয়েও ভাবতে হবে। এ ছাড়া প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে ‘জলবায়ু শরণার্থী’ স্বীকৃতির আইনগত কাঠামো। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই সুন্দরবন গড়তে এখনই জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ। বহুবিধ সীমাবদ্ধতা কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা তাদের জীবিকা, পুনর্বাসন, এবং সামাজিক সুরক্ষার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য।
‘উৎকর্ষ বাংলা’ এবং ‘যুবশ্রী প্রকল্প’-এর মাধ্যমে সরকার সুন্দরবনের যুবসমাজকে নানা ধরনের টেকনিক্যাল এবং নন-টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পরিবেশবান্ধব পেশা যেমন মৌচাক পালন, মাছ চাষ, ম্যানগ্রোভ নার্সারি ইত্যাদিতে যুবদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের দুর্গত এলাকাগুলিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) গঠনের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে। মহিলা পরিচালিত গোষ্ঠীগুলিকে ক্ষুদ্র ঋণ ও অনুদান দিয়ে মাছের ভেড়ি তৈরি, হাঁস-মুরগি পালন ইত্যাদিতে যুক্ত করা হচ্ছে। সুন্দরবনের গ্রামাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎচালিত পানীয় জলের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাঁধ মেরামত, জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নতকরণ এবং লবণাক্ততা প্রতিরোধক চাষবাসে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে।
‘বাংলার আবাস যোজনা’-র মাধ্যমে নদীভাঙনের শিকার মানুষদের জন্য উঁচু জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। জলবায়ুগত উদ্বাস্তু সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য সরকার ডিজিটাল সার্ভে ও জিও-ট্যাগিং পদ্ধতি চালু করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ (Loss and Damage Financing) প্রাপ্তির লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আন্তর্জাতিক ফোরামে নিজেদের উদ্বাস্তু পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। ২০২৩ সালে COP28 সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী রাজ্য প্রতিনিধিদল এই বিষয়টি উত্থাপন করে। সুন্দরবনের জলবায়ুগত উদ্বাস্তু, অকাল বিধবা ও যুবসমাজকে পুনর্গঠন করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগগুলি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে, এই চ্যালেঞ্জ এতটাই ব্যাপক যে, আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে (Sundarbans Climate)।






