BJP Strategy: রাজ্য বিজেপির খোলনলচে পাল্টে দিতে চাইছেন শমীক, সম্ভব কী!
বলেছেন যে, রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষের অভাব-অভিযোগের কথাও বিজেপিকে শুনতে হবে।
জয়ন্ত চক্রবর্তী: দায়িত্ব নিয়েই রাজ্য বিজেপির খোলনলচে পাল্টে দিতে চাইছেন শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপির কট্টর হিন্দুত্ববাদী লাইন ছেড়ে তিনি সংখ্যালঘু ভোটারদের (পড়ুন মুসলমান ভোটারদের) মন জয় করতে চাইছেন। বিজেপির প্রথম কর্মসমিতির সভাতেই তিনি তাঁর মানসিকতা ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন যে, রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষের অভাব-অভিযোগের কথাও বিজেপিকে শুনতে হবে। হঠাৎ বিজেপির এই বোধোদয় কেন? রীতিমতো পড়াশোনা করা শমীক বুঝতে পারছেন যে রাজ্যের সংখ্যালঘু প্রায় তিরিশ শতাংশ মানুষের মন জয় করতে না পারলে রাজ্যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের মোকাবিলা করা সম্ভব নয় (BJP Strategy)।
আরও পড়ুনঃ BJP: গণদেবতাকে ‘অমর্যাদা’, প্রশ্নের মুখে বিজেপি
গতবার অর্থাৎ ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ২১৫টি আসন পেয়েছিল, বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। রাজ্যে রায়গঞ্জ, কোচবিহার, বালুরঘাট, মালদা দক্ষিণ, মালদা উত্তর, মুর্শিদাবাদ, উলুবেড়িয়া, ডায়মন্ড হারবার, হাওড়া, বীরভূম, মথুরাপুর ও জয়নগর মুসলিম অধ্যুষিত। নির্বাচনে উত্তরে সাফল্য পেলেও দক্ষিণে তারা ডাহা ফেল। শমীক ভট্টাচার্য জানেন সেই কথা। তাই তিনি হঠাৎ সংখ্যালঘু, (পড়ুন মুসলমান ) দরদি হয়ে উঠলেন। শুভেন্দু অধিকারীর কট্টর হিন্দুত্ববাদী লাইন ছেড়ে বিজেপির এই ভোলবদলের চেষ্টা সংখ্যালঘুরা ভালভাবে নেবেন তো? নাকি বিজেপির এই বদলের রাজনীতি পার্টিতে গৃহীত হবে? এতদিন পর্যন্ত মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপিজমেন্ট পলিটিক্স-এর বিরুদ্ধে সরব বিজেপির এই রংবদল মানুষ মানবে তো? নাকি তারা বুঝতে পারবে যে ভোটের ময়দানে কিঞ্চিৎ সুবিধা পাওয়ার জন্যেই তাদের এই মুখোশ! সারা ভারতে যেখানে হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাসী বিজেপি, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের জন্যে আলাদা নীতি কতটা বাস্তব সম্মত, সেই ব্যাপারেও প্রশ্ন উঠছে (BJP Strategy)।
শমীক ভট্টাচাৰ্য বিলক্ষণ জানেন যে, একা বিজেপির পক্ষে সম্ভব নয় মমতা বন্দোপাধ্যায়কে রুখে দেওয়া। তাই গত রবিবার তিনি সূচতুর ভাবে কংগ্রেস ও সিপিএম-কে নিয়ে গ্রান্ড অ্যালায়েন্স-এর টোপটা ছুড়ে দিয়েছেন। সিপিএম সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রয়াত জ্যোতি বসু একবার অটলবিহারী বাজপেয়ীকে বলেছিলেন– আপনাদের দলটি অসামাজিক বর্বরদের দিয়ে গড়া কেন? সিপিএম মনে করছে, সেই অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাই, বিজেপির হাত ধরার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কংগ্রেস বাকি ভারতে বিজেপির সঙ্গে লড়াই করে পশ্চিমবঙ্গে আলাদা ভূমিকা নেবে এমন হারাকিরি করার দুঃসাহসটি দেখানোর কথা ভাবতে পারে না, তা নির্বাচনে তাদের আসনসংখ্যা শূন্যে নেমে আসুক না কেন (BJP Strategy)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/193NB43TzC/
শমীক ভট্টাচাৰ্য অঙ্কে দড়। মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিকে তিনি অঙ্কে কত পেয়েছিলেন তা জানা নেই। কিন্তু ভোটের অঙ্কে তিনি অনেকটাই পরিণত। তাই গতবারের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রাপ্ত ৪৭.৩ শতাংশ ভোটের তুলনায় বিজেপির ৩৮.১ শতাংশ যে অনেকটাই কম তা জানেন শমীকবাবু। তাই তিনি গ্রান্ড অ্যালায়েন্স কথা বলছেন। যেটা জানেন না শমীকবাবু তা হল, আরজি কর, শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি কিংবা কসবা কাণ্ডের পরেও মমতা বন্দোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট পার্সেন্টেজ বাড়বে। কারণ, সেই বিশ্বাসযোগ্যতা বিজেপির নেই যাতে লোকে তাদের ‘আমাদের পার্টি’ বলে মনে করবে (BJP Strategy)!






