
Truth Of Bengal: মৌ বসু: শারদোৎসব শেষ। কালীপুজো, ভাইফোঁটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন আকাশে বাতাসে বিষাদের সুর। কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এক উৎসবের বিদায়ই বয়ে আনে পরের উৎসবের আগমন বার্তা। গোটা বাংলা প্রস্তুত জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য।

দেবী জগদ্ধাত্রী হলেন সমগ্র জগতের ধাত্রী বা পালনকর্ত্রী। দেবী হলেন সত্ত্বগুণের আধার। ত্রিনয়না দেবী জগদ্ধাত্রী সিংহবাহিনী। দেবীর বাহন সাদা সিংহ, সিংহের পদতলে থাকে একটি কাটা হাতির মাথা। এটি মহাহস্তিরূপী অসুর করীন্দ্রাসুরকে বধের প্রতীক। নানান অলঙ্কারভূষিতা দেবী জগদ্ধাত্রী গলায় নামযজ্ঞোপবীত ধারণ করে থাকেন। চর্তুভূজা দেবীর চার হাতে থাকে শাঁখ, ধনুক, চক্র ও বাণ। দেবীর গাত্রবর্ণ নবোদিত সূর্যের মতো।

কাত্যায়ণীতন্ত্রে জগদ্ধাত্রী দেবীর উৎপত্তি সম্বন্ধে পৌরাণিক কাহিনির উল্লেখ আছে। কাহিনি অনুসারে, একবার পবনদেব, অগ্নিদেব, বরুণদেব, চন্দ্রদেব প্রভৃতি দেবতারা নিজেদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলে ভাবতে শুরু করেন। অসুরদের হারানোর পর নিজেদের শক্তি সম্পর্কে অহংকারী দেবতারা ভুলে গিয়েছিলেন মহাশক্তিরূপিনী দেবী দুর্গার শক্তিতে তাঁরা বলীয়ান। দেবী সব জানার পর দেবতাদের দম্ভ, অহংকারকে দূর করতে সচেষ্ট হলেন।

জ্যোতির্ময়ী রূপ নিয়ে তিনি দেবতাদের সামনে হাজির হলেন। কোটি সূর্যের দীপ্তি আর কোটি চন্দ্রের প্রভাযুক্ত তেজরাশি দেখে ভয় পেলেন দেবতারা। দেবী তখন তাঁদের সামনে ছোট্ট ঘাসের টুকরো নাড়াতে বলেন। ঘাসের টুকরো নাড়াতে ব্যর্থ হওয়া দেবতারা বুঝতে পারেন জ্যোর্তিময়ী দেবীই সকল শক্তির আধার। দেবীর করুণাতেই তাঁদের শক্তিলাভ। সকল দেবতা তখন দেবীর স্তব শুরু করেন। স্তবে তুষ্ট হয়ে দেবী জগদ্ধাত্রী আবির্ভূতা হন।






