মমতার ১৫ বছরের রাজত্বে ইতি! বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে ব্রাত্য কালীঘাট তৃণমূল
কংগ্রেস-নওশাদরাও পেলেন জায়গা, ব্রাত্য শুধু কালীঘাট! ঋতব্রত পন্থীদের হাতেই কি চলে গেল বিধানসভা নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি?
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাটপন্থী’ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক জমি যেন ক্রমশই মরুভূমি হয়ে উঠছে। বিরোধী দলনেতার পদ আগেই হাতছাড়া হয়েছিল, এরপর কেড়ে নেওয়া হয়েছে মুখ্য সচেতকের (Chief Whip) ক্ষমতাও। এবার সদনের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ও নীতি-নির্ধারক কমিটি থেকেও আক্ষরিক অর্থেই ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেল কালীঘাটের প্রতিনিধিরা। বিধানসভার সদ্যঘোষিত ‘বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটি’ বা বিএ (BA) কমিটি থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হল কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সমস্ত বিধায়ককে। উলটে এই কমিটিতে থাবা বসিয়েছে ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং নামমাত্র আসন থাকা বাম-আইএসএফ জোট, কংগ্রেস।
গত ১৯ জুন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের সম্মতিতে বিধানসভার এই নতুন বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিধানসভার অন্দরে এটি অত্যন্ত প্রভাবশালী কমিটি, কারণ অধিবেশন কতদিন চলবে, কী কী বিল পেশ হবে কিংবা কোন বিষয়ে কতক্ষণ আলোচনা হবে, তার সবটাই নিয়ন্ত্রণ করে এই বিএ কমিটি। সোজা বাংলায়, গোটা সদনের কার্যবিবরণী পরিচালনার মূল চাবিকাঠি থাকে এদের হাতেই। অথচ, বিগত ১৫ বছর ধরে যে বিধানসভার প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রিত হত সরাসরি কালীঘাটের নির্দেশে, আজ সেই কমিটির মূল ১৯ জন এবং আমন্ত্রিত ১০ জন সদস্যের তালিকায় স্থান পেলেন না মমতার অনুগামী কোনও বিধায়ক।
ঋতব্রত শিবিরের জয়জয়কার, জায়গা পেলেন নওশাদ-মোস্তাফিজুররাও
স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোস প্রথা মেনেই সংখ্যাধিক্যের জোরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকেই বিধানসভায় ‘আসল’ তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ফলে মূল কমিটিতে বিজেপির হেভিওয়েটদের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছেন ঋতব্রতপন্থী তথা বিরোধী মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান, প্রবীণ বিধায়ক বিপ্লব মিত্র এবং সমীর কুমার জানারা। অন্যদিকে, আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন সন্দীপন সাহা ও জাভেদ আহমেদ খান।
বাম-কংগ্রেসের এন্ট্রি, কিন্তু ব্রাত্য মমতা
কমিটিতে ভারসাম্য রাখতে এমনকি আইএসএফ (ISF)-এর নওশাদ সিদ্দিকী, সিপিএমের মোস্তাফিজুর রহমান, কংগ্রেসের মোহতাব শেখ এবং আম জনতা পার্টির হুমায়ুন কবীরকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটির মূল তালিকায় রয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, দীপক বর্মন, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্বপন দাশগুপ্ত, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, মালতি রাভা রায়, বিশাল লামা, উমেশ রাই, অনুপম বিশ্বাস, বিরাজ বিশ্বাস এবং সরকারি মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএ কমিটি থেকে এভাবে পুরোপুরি বাদ পড়ার ফলে আগামী ৫ বছর বিধানসভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণে কালীঘাটের আর কোনও ভূমিকাই অবশিষ্ট থাকল না।






