ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ-দুর্নীতির প্রতিবাদে ধুন্ধুমার: বিধানসভা অভিযানে উত্তপ্ত রাঁচী, আটক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা সোমবার সকালে এক বিশাল বিধানসভা অভিযানের সূচনা করেন
Truth of Bengal: ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শন চরম রূপ নিয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুসারেই আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা সোমবার সকালে এক বিশাল বিধানসভা অভিযানের সূচনা করেন। মিছিলের অগ্রভাগে অ্যাম্বুল্যান্সে করে উপস্থিত ছিলেন অনশনরত ছাত্র দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। রাঁচীর রাস্তায় একের পর এক ব্যারিকেড পার করে আন্দোলনকারীরা বিধানসভা ভবনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। তবে ভবন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জগন্নাথ মন্দিরের কাছে পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়। বাধা পেয়ে পড়ুয়ারা রাস্তার ওপরই বসে পড়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা পুনরায় ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বাধা উপেক্ষা করেই ছাত্ররা তাঁদের মিছিল এগিয়ে নিয়ে যান।
অন্যদের পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতির নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারাণ্ডি ও বিজেপি নেতা আদিত্য সাহুসহ একাধিক বিজেপি কর্মী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য সোনু অভিযোগ তোলেন যে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিজেপি ছাত্রদের এই আন্দোলনকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে। এই বিধানসভা অভিযানের পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। ইতিপূর্বে সরকারপক্ষের সঙ্গে তিন দফায় আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হলো, নিয়োগ পরীক্ষার সমস্ত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করাতে হবে এবং সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। সরকার এই দাবি পুরোপুরি মেনে না নেওয়াতেই ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা পুরনো বিধানসভা থেকে নতুন বিধানসভা পর্যন্ত এই প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে এই কর্মসূচিতে শামিল হন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা পথের সমস্ত বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা করেন, এমনকি অনেককে ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়তেও দেখা যায়।
আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো গত আট দিন ধরে অনশন চালাচ্ছেন এবং অনশনের কারণে তাঁর ওজন প্রায় ১০ কেজি কমে গিয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি শিবু সোরেনের একটি ছবি হাতে নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে চড়ে মিছিলে যোগ দেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা বাবুলাল মারাণ্ডি জানান যে গত দুই সপ্তাহ ধরে ছাত্ররা আন্দোলন করলেও সরকার সে বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। একইভাবে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার বিধায়ক জয়রামকুমার মাহাতো অভিযোগ করেছেন, পড়ুয়াদের ন্যায়সঙ্গত দাবি মেটাতে হেমন্ত সোরেনের সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে অবশ্য দাবি করেন যে পড়ুয়াদের বেশিরভাগ দাবি ইতিমধ্যেই মেনে নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, ঝাড়খণ্ড এসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি আদালতের নির্দেশাধীন হওয়ায় সরকার এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। পাশাপাশি, ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করবে না বলে তিনি আশ্বাস দিলেও বাস্তবে জলকামান ব্যবহারের ঘটনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।





