হাই কোর্টে পিছোল ভবানীপুর নির্বাচনী মামলা, শুভেন্দুর আইনজীবীকে ৪ সপ্তাহ সময়
মামলার যাবতীয় তথ্য লিখিত আকারে জমা দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী জয়দীপ কর ছয় সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন
Truth of Bengal: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল কলকাতা হাই কোর্টে। মামলার যাবতীয় তথ্য লিখিত আকারে জমা দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী জয়দীপ কর ছয় সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। যদিও এতটা সময় দেওয়ার বিরোধিতা করেন মমতার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি গৌর কান্ত চার সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন। ভবানীপুরে পরাজয়ের পর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অসৎ পদ্ধতি অবলম্বন করে তাঁকে হারানো হয়েছে। হাই কোর্ট মামলাটি গ্রহণ করার পর গত ২৩ জুন বিচারপতি গৌর কান্ত নির্বাচন কমিশনকে ওই কেন্দ্রের ভোট সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যবহৃত সমস্ত ইভিএম ও ভিভিপ্যাট, ভোটগ্রহণ এবং ভোটগণনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সুরক্ষিত রাখতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। শুনানি শুরু হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষের আইনজীবী সমস্ত তথ্য লিখিত আকারে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য ছয় সপ্তাহ সময় চান। মমতার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার বিরোধিতা করে প্রশ্ন তোলেন, নথি জমা দেওয়ার জন্য এত দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন কেন। সব দিক বিবেচনা করে আদালত ছয় সপ্তাহের পরিবর্তে চার সপ্তাহ সময় দেয়। ফলে আগামী চার সপ্তাহ পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটগণনার দিন গণনাকেন্দ্রে গিয়ে মমতা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর এবং তাঁর এজেন্টদের উপর হামলা হয়েছে। গণনাতেও কারচুপি চলছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মমতা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিত ভাবে তাঁকে হারানো হয়েছে। এরপরই নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন তিনি। এবার লিখিত বক্তব্য জমা পড়ার পর মামলাটি কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।






