রাজ্যের খবর

নির্মল ঘোষের গ্রেফতারি চাই! আরজি কর কাণ্ডে আদালতে সওয়াল অভয়ার পরিবারের

৩ প্রভাবশালীকে হেফাজতে নিতে আদালতের দ্বারস্থ সিবিআই ও পরিবার

Truth of Bengal: আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের আঁচ এবার পৌঁছাল প্রভাবশালী রাজনীতিকদের দুয়ারে। বুধবার শিয়ালদহ আদালতে নির্যাতিতার পরিবারের তরফে পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানো হল। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন তথ্য প্রমাণ লোপাট এবং তড়িঘড়ি দেহ দাহ করার নেপথ্যে এই তিনজনের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

“দেহ হাইজ্যাক করেছিলেন ওঁরা!”

আদালতে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানান, ঘটনার পর থেকেই নির্মল ঘোষ ও তাঁর সঙ্গীরা অতি-সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁরা নির্যাতিতার দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে বাধা দিয়েছিলেন এবং পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় নথি হস্তান্তর না করেই তড়িঘড়ি দেহ দাহ করার ব্যবস্থা করেছিলেন। আইনজীবীর কথায়, “সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় আগে বামপন্থী ছিলেন, পরে রং বদলেছেন। ওঁরা কার্যত দেহ হাইজ্যাক করে নিয়েছিলেন।”

সিবিআই-এর অবস্থান ও আদালতের স্থগিতাদেশ

এদিন আদালতে সিবিআই-এর আইনজীবী জানান, তদন্তকারী সংস্থা কাকে গ্রেফতার করবে তা কেউ বলে দিতে পারে না। তবে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁরা একটি হলফনামা দিতে চান। অন্যদিকে পরিবারের আইনজীবীর প্রশ্ন, ২০২৪-এর চার্জশিটে অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়ার কথা থাকলেও কেন তা এখনও দেওয়া হলো না? দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আগামী ৫ জুন।

শপথ ফেলে মেয়ের বিচারের লড়াইয়ে মা

এবারের নির্বাচনে পানিহাটিতে নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন নির্যাতিতার মা। বুধবার বিধানসভায় উত্তর ২৪ পরগনার বিধায়কদের শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি পৌঁছে যান শিয়ালদহ আদালতে। সাংবাদিকদের সামনে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “মেয়ের বিচার পাওয়া আমার কাছে সবথেকে বড় অগ্রাধিকার। ও-ই ছিল আমার গোটা পৃথিবী। মেয়ের জন্য লড়াইটা আমি শেষ পর্যন্ত লড়ব।”

উল্লেখ্য, নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে আরজি কর ও সন্দেশখালি কাণ্ডের তদন্তে নতুন কমিশন বসানো হবে। এবার সরাসরি আদালতে প্রভাবশালীদের গ্রেফতারির দাবিতে এই আবেদন মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles