রাজ্যের খবর

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মূল গর্ভগৃহে ফিরবেন মা তারা, ‘রাজরাজেশ্বরী’ রূপে হবে বিশেষ পুজো

ওই দিন সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী

Truth of Bengal: মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সংস্কারের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ষষ্ঠীর দিন দেবীকে গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি। এবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন, আগামী ২৫ অক্টোবর, মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ওই দিন সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ‘রাজরাজেশ্বরী’ রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে তাঁর বিশেষ পুজো করা হবে। তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে বর্তমানে সংস্কারের কাজ চলছে। সেই কাজের অংশ হিসেবে দেবীর বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। গোটা সংস্কার প্রকল্পে খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। পাশাপাশি, অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ রেলিং। রেলিং সময়মতো তারাপীঠে এসে না পৌঁছনোয় সংস্কারের কাজে বিলম্ব হয়েছে বলে মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে।

মন্দির কমিটি জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবর দেবীকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার আগে প্রয়োজনীয় শুদ্ধিকরণ এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। এরপর সন্ধ্যারতি সম্পন্ন হলে দেবীকে তাঁর মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে। মন্দির প্রতিষ্ঠাতা জগন্নাথ রায়ের বংশধরদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও নিত্যপুজো ও দর্শনে কোনও ছেদ পড়েনি। শিবমন্দিরেই নিয়মিত চলছে দেবীর সেবা ও আরাধনা। ফলে ভক্তদের জন্য পুজো বন্ধ রাখতে হয়নি।

তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দু’দিন পর সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়ার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ষষ্ঠীতেও দেবীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। পুলক চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, আগামী ২৫ অক্টোবর ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। সেখানে সারাদিন থাকার পর সন্ধ্যারতি শেষে তাঁকে আবার মূল গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠা করা হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে ‘রাজরাজেশ্বরী’ রূপে দেবীর আরাধনাকে ঘিরে তারাপীঠে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Related Articles