কলকাতারাজ্যের খবর

বাজেটকে ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ বলে কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর

একই সঙ্গে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পকে ভাঁওতা বলে দাবি করেন তিনি।

Truth Of Bengal: ভোট অন অ্যাকাউন্টস ও পূর্ণাঙ্গ বাজেট এক নয় বলে রাজ্য সরকারের বাজেটকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “এটা ভোট অন অ্যাকাউন্টস নয়, পুরো বাজেট। কার্যত এটা নির্বাচনী ইশতেহার। দু’-একটি ঘোষণা ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর করার চেষ্টা হচ্ছে।”বাজেটে ঘোষিত বরাদ্দ নিয়ে বিরোধী দল হিসাবে একমত নন বলে জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিভিন্ন খাতে যে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, তার সঙ্গে আমরা একমত নই। সম কাজে সম বেতন হওয়া দরকার।” তিনি আরও বলেন, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, তাই বাজেটে ঘোষিত বহু বিষয় নিয়ম মেনে বাস্তবায়িত হবে না।সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা।

তাঁর দাবি, “যাঁরা আগে এক হাজার টাকা পেতেন, তাঁরা সেটাই পাবেন। নতুন করে কিছুই মিলবে না।” বেকার যুবকদের জন্য রাজ্য বাজেটে ১৫০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণাকে পুরনো প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এই প্রকল্পের নাম আগে ছিল যুবশ্রী। মুখ্যমন্ত্রী নেতাজি ইন্ডোরে গিয়ে কন্যাশ্রীর পর যুবশ্রী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীকে ১৫০০ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।”ভোটার তালিকা নিয়েও অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে।”

একই সঙ্গে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পকে ভাঁওতা বলে দাবি করেন তিনি। চাকরি প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, “রাজ্যের ৫১টি কর্মবিনিয়োগ কেন্দ্রে তালা ঝুলছে। চাকরি চুরি হয়েছে। সেই কারণেই এই বাজেটে চাকরির কোনও স্পষ্ট প্রভিশন নেই। চাকরি সরিয়ে ভাতার দিকে চলে গিয়েছে সরকার।”রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “১৫ বছরের হিসাব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন রাজ্যের ঋণের বোঝা ২ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বকেয়া অর্ধেক রেখে দেওয়া হয়েছে, সপ্তম বেতন কমিশন এখনও কার্যকর হয়নি।”

বিএসকে-তে কর্মরত কর্মীদের প্রসঙ্গ এবং কৃষকদের জন্য বাজেটে কোনও উল্লেখ না থাকার অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “এক্স-এমএলএদের পেনশন বাড়ানো হোক।”ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।”

Related Articles