তারাতলা কাণ্ডে শুভেন্দুর কড়া নির্দেশ! কলকাতা-সহ ৭ পুর এলাকায় বন্ধ সমস্ত বহুতল নির্মাণ
কলকাতা থেকে বারুইপুর, এক ধাক্কায় থমকে গেল ৭ পুরসভার সমস্ত বহুতল নির্মাণ! স্মিতা পাণ্ডে-খড়গপুর IIT-কে নিয়ে মেগা কমিটি মুখ্যমন্ত্রীর
Truth Of Bengal: তারাতলার ৫ তলা চা গুদাম বিপর্যয়ের পর এবার নজিরবিহীন ও চরম কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শুধু কলকাতা পুরসভা নয়, সংলগ্ন রাজারহাট-নিউ টাউন, মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, সোনারপুর এবং বারুইপুর পুরসভা এলাকাতেও এই মুহূর্তে চলা সমস্ত নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের কাজ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রতিটি বিল্ডিংয়ের নকশা বা প্ল্যান পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই স্পেশাল কমিটির গ্রিন সিগন্যাল বা সবুজ সঙ্কেত পেলেই কেবল পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। কিন্তু অডিটের সময় যদি কোনো প্ল্যানে বা নকশায় সামান্যতম গলদ বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তবে শুধু সেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাই নয়, প্রোমোটার ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের একেবারে জেল খাটানো হবে। দুর্নীতি ও কাটমানি ইস্যুতে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্মিতা পাণ্ডে ও IIT খড়গপুরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মেগা টাস্ক ফোর্স
এই মেগা অডিট প্রক্রিয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, তার নেতৃত্বে থাকছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। এ ছাড়াও কমিটিতে থাকছেন খলিল আহমেদ, রাজেশ সিনহা, রচনা ভগত, ডিজি বিল্ডিং, ডিজি ফায়ার এবং খড়গপুর আইআইটি (IIT Kharagpur)-র শীর্ষ স্তরের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞরা।
“কে এই কালী?” ফিরহাদের ওএসডি-র নাম তুলে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কাটমানি ইস্যুতে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে তীব্র আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয় কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে তৃণমূল সরকার। একাধিক দুর্ঘটনা থেকে আপনারা কোনো শিক্ষা নেননি।” এরপরই তারাতলার অভিশপ্ত গোডাউনের নথি দেখিয়ে তিনি ফাঁস করেন, সেখানে সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নির্মলেন্দু সরকার, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রঞ্জন দাস এবং খোদ প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে জানান তিনি।
সবচেয়ে বড় বোমাটি মুখ্যমন্ত্রী ফাটান এক ‘কালী’-র নাম তুলে। শুভেন্দু বলেন, “কলকাতা পুরসভায় কী খেলা হয়েছে আমরা সব জানি। ওই কালীকে ধরলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। কালী না বললে কোনো প্ল্যান পাস হতো না পুরসভায়।” রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কালীর পুরো নাম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি মেয়র থাকাকালীন ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত প্রভাবশালী ওএসডি (OSD) ছিলেন। শেষে, উদ্ধারকাজে অসাধারণ ভূমিকা নেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনা, এনডিআরএফ এবং কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।




