রাজ্যের খবর

দক্ষিণ দিনাজপুরের মাঠে এবার ভুট্টার দাপট, সরিষার জায়গা নিচ্ছে অর্থকরী ফসল

হরিরামপুর ও কুশমন্ডি ব্লকে আগেও অল্পবিস্তর ভুট্টা চাষ হলেও, চলতি মরশুমে বালুরঘাট ও হিলি ব্লকে ব্যাপক হারে ভুট্টা চাষ চোখে পড়ছে।

বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: কৃষিনির্ভর জেলা হিসেবে দক্ষিণ দিনাজপুরের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। এতদিন এই জেলার কৃষকদের চাষের মূল ভরসা ছিল ধান আর পাট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে সেই ছবি। কৃষি দফতরের উদ্যোগে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার টানে এখন জেলার কৃষকেরা ঝুঁকছেন অন্যান্য অর্থকরী ফসলের দিকে। তারই অন্যতম উদাহরণ ভুট্টা চাষ। হরিরামপুর ও কুশমন্ডি ব্লকে আগেও অল্পবিস্তর ভুট্টা চাষ হলেও, চলতি মরশুমে বালুরঘাট ও হিলি ব্লকে ব্যাপক হারে ভুট্টা চাষ চোখে পড়ছে।

বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বালুরঘাট ব্লকের চিঙ্গিসপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং হিলি ব্লকের লাকমা, জামালপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষকেরা এবছর ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।কৃষি দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, আমন ধান কাটার পর সাধারণত এই জেলায় সরিষা চাষ করা হয়। কিন্তু এবছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ‘মান্থা’ নামের ঝড়ের জেরে অকাল বৃষ্টিতে বহু জমিতে জল দাঁড়িয়ে যায়। ফলে হারভেস্টার নামাতে দেরি হয়। সময়মতো ধান কাটতে না পারায় সরিষা চাষ পিছিয়ে যায়। সেই কারণেই বিকল্প হিসেবে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক।

চিঙ্গিসপুর এলাকার কৃষক অশেষ মাহাতো বলেন, দু’বছর ধরে ভুট্টা চাষ করছি। খাটনি আছে, কিন্তু লাভও হচ্ছে। তাই এই চাষে আগ্রহ বেড়েছে। সরকার যদি একটু সাহায্য করত, তাহলে আরও বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করা যেত। একই এলাকার আর এক কৃষক সুদেব মাহাতোর কথায়, “বিঘা প্রতি ১৪ থেকে ১৫ কুইন্টাল ভুট্টা পাচ্ছি। খরচ বাদ দিয়ে ৫-৬ হাজার টাকা লাভ থাকছে। সেচের ব্যবস্থা হলে আরও সুবিধা হত। শঙ্কর মাহাতো জানান, বাইরে থেকে ভুট্টা চাষের সাফল্যের কথা জেনে তিনি এই চাষ শুরু করেন।

তাঁর দাবি, লাভের অঙ্ক মন্দ নয়, তবে সরকারি সহায়তা পেলে চাষ আরও সহজ হত। জেলা কৃষি আধিকারিক অমিত চ্যাটার্জী জানান, শুধু বালুরঘাট বা হিলি নয়, জেলার প্রায় সব ব্লকেই কমবেশি ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তাঁর কথায়, মান্থার বৃষ্টির জন্য অনেক কৃষক সময়মতো সরিষা চাষ করতে পারেননি। সেই কারণেই এবছর ভুট্টা চাষের দিকে ঝোঁক বেড়েছে।  লাভের মুখ দেখলে দক্ষিণ দিনাজপুরে ভুট্টা চাষ যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।

Related Articles