সমবেদনা জানাতে গিয়ে ‘আক্রান্ত’ মমতা, তৃণমূল কর্মী খুনে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর
সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই সিআইডির একটি দল হালিশহর থানায় গিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে
Truth of Bengal: হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় এবার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। এর আগে হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার ঘটনার দিন থানার লকআপে ঠিক কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখবেন রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তরের আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই সিআইডির একটি দল হালিশহর থানায় গিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে। লকআপে থাকা অবস্থায় তৃণমূল কর্মী বিরজু কুমারের মৃত্যু কীভাবে হল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এই তদন্ত। গত ৬ অগস্ট বিরজু কুমারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। ৮ অগস্ট তাঁকে থানার লকআপে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পরেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি অত্যাচারের জেরেই বিরজুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ‘চোর চোর’ স্লোগানও শোনা যায়।এর পরের দিনই পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে হালিশহরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের অভিযোগ শোনেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের স্ত্রী তাঁকে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন এবং পরিবার ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রং দিতে চায়নি।
এরপরই হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং মামলার তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা এসডিও স্তরে তদন্তের কথাও ঘোষণা করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলাশাসককেও তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেই ঘটনার তদন্তে সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়ায় মামলাটি নতুন মাত্রা পেল। পুলিশের হেফাজতে বিরজু কুমারের মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও গাফিলতি বা অত্যাচার ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখাই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।






