মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র ‘ডাবল স্ট্রোক’! মাঝরাতে গ্রেফতার ২ কংগ্রেস নেতা
মালদহের অশান্তির নেপথ্যে কি তবে ছিল সুপরিকল্পিত ছক?
Truth of Bengal: মোথাবাড়ি-কাণ্ডে আরও কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। ভোটার তালিকার কাজ করতে গিয়ে বিচারকদের রাতভর বন্দি করে রাখার ঘটনায় এবার মালদহের দুই হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতাকে গ্রেপ্তার করল তারা। ধৃতদের নাম শাহদাত হোসেন এবং আসিফ শেখ। এর আগে এই একই ঘটনায় আইএসএফ নেতা গোলাম রব্বানিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে মোথাবাড়ি-কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, রবিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহদাত ও আসিফকে তলব করা হয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ জেরার সময় তাঁদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ঘটনার নেপথ্যে তাঁদের সক্রিয় যোগসাজশ রয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। তার পরেই তাঁদের সরকারিভাবে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে, মোথাবাড়ি বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরীকেও এদিন দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে এনআইএ, যদিও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন বিচারকদের আটকে রেখে যে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছিল, তার গুরুত্ব বুঝে শীর্ষ আদালত এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মতো কলকাতার সিবিআই বিশেষ আদালতে ইতিমধ্যেই ১২টি এফআইআর দায়ের করেছে সংস্থাটি। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, মারধর এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এনআইএ-র এই সাঁড়াশি অভিযানে রীতিমতো তটস্থ হয়ে পড়েছে মালদহের রাজনৈতিক মহল। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বিচারকদের আটক করার এই বিক্ষোভ কি নিছকই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল, নাকি এর পিছনে বড় কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছিল। ধৃত তিনজনকে জেরা করে আরও রাঘববোয়ালের নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেই নজর সবার।




