রাজ্যের খবর

বিধানসভা থেকে সোজা ধানের জমিতে, গেঞ্জি-বারমুডা পরে চাষের জমিতে রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ

"মাটির গন্ধ আজও ভুলিনি!", পৈতৃক ধানের জমিতে শ্যালো মেশিন চালিয়ে সবাইকে তাক লাগালেন গৌরীশঙ্কর

কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: বিধানসভার চেয়ার থেকে সরাসরি ধান চাষের জমিতে। রাজনীতির ব্যস্ততা, মন্ত্রিত্বের গুরুদায়িত্ব সামলেও এখনও ভুলতে পারেননি মাটির গন্ধ। তাই মাটির টানেই সময় পেলেই ছুটে যান নিজের পৈতৃক জমিতে, হাত লাগান চাষাবাদের কাজে। এমনই এক অন্য ছবি ধরা পড়ল মুর্শিদাবাদে।

রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর এবং গ্রন্থাগার দফতরের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিশ্বকর্মা পুজোর পরের দিন, শনিবার সকালে তাঁকে দেখা গেল একেবারে অন্য ভূমিকায়। পরনে গেঞ্জি আর বারমুডা, খালি পায়ে নেমে পড়েছেন জমিতে। নিজের হাতে শ্যালো মেশিন চালিয়ে জমিতে জল দিচ্ছেন, কোদাল দিয়ে মাটি ঠিক করছেন। মন্ত্রী-সুলভ কোনও আড়ম্বর নেই, একেবারে সাধারণ কৃষকের মতোই মাঠে কাজ করছেন তিনি।

সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের লালবাগের প্রসাদপুর গ্রামে নিজের বাড়ি ছাড়াও প্রায় পাঁচ বিঘা ধানের জমি রয়েছে মন্ত্রীর। সবটাই তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। আগে নিয়মিত নিজেই চাষাবাদ করতেন। কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার পর রাজনৈতিক কর্মসূচি, দপ্তরের কাজে সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই ইচ্ছে থাকলেও রোজ মাঠে যাওয়া হয়ে ওঠে না। তবে শিকড়কে ভোলেননি তিনি। হাতে একটু সময় পেলেই ছুটে যান মাঠে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “আমার পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে কয়েক বিঘা ধানের জমি রয়েছে। সেখানে আমরা নিজেরাই চাষাবাদ করি। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন একটি শ্যালো মেশিনকে পুজো দেওয়া হয়েছিল। তারপর মেশিন দিয়ে জমিতে জল দেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “প্রায় এক বছর পর মাঠে গেলাম। কারণ এখন সারাদিনই রাজনীতির কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। কিন্তু সময় পেলেই আমি মাঠের কাজে গিয়ে হাত লাগাই। এছাড়া বাড়িতে গরু রয়েছে। সময় পেলে রাতের বেলা ফিরে তাদের পরিচর্যাতেও হাত লাগাই। রাজনীতির ময়দানে থাকলেও নিজের শিকড়কে এখনও ভুলতে পারিনি। মাটির সঙ্গে আমার সম্পর্কটা আজকের নয়।”

মন্ত্রীর এই রূপ দেখে খুশি এলাকার মানুষজনও। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “উনি মন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এখনও মাটির মানুষ হয়েই আছেন। অনেক নেতা-মন্ত্রীকে দেখেছি ক্ষমতায় এলে জমি-জায়গা থেকে দূরে সরে যান। কিন্তু উনি এখনও নিজে মাঠে নেমে চাষ করেন, এটা আমাদের কাছে খুব গর্বের।”

Related Articles