“ক্যামাক স্ট্রিট থেকেই মমতাকে হারানোর ছক!”, অভিষেকের গোপন ষড়যন্ত্র নিয়ে বিস্ফোরক ঋতব্রত!
ভবানীপুরে এজেন্ট আটকে শুভেন্দুর কাছে মমতার পরাজয়? আসল 'মুষল পর্বের' সত্য প্রকাশ্যে আনলেন বিরোধী দলনেতা!
Truth of Bengal: বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসকে এক লহমায় ওলটপালট করে দেওয়া চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে নিয়ে এলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার মূল ষড়যন্ত্রটি নাকি রচিত হয়েছিল খোদ ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর থেকেই! ঋতব্রতর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলেরই মোট ১৪ জন প্রথম সারির প্রার্থীকে হারিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ছক কষেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব চললেও, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত তা তীব্র আকার ধারণ করেছিল। তরুণ নেতারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সেনাপতি’ হিসেবে সর্বেসর্বা দেখতে চাইলেও প্রবীণদের একমাত্র আস্থা ছিলেন ‘দিদি’। ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবি, প্রকাশ্যে ঐক্য দেখালেও তলায় তলায় চলছিল এক মারাত্মক মুষল পর্ব। অভিষেক নাকি চেয়েছিলেন মমতাকে ভোটে পরাজিত করে একাধারে দল এবং রাজ্য সরকার, উভয়েরই সম্পূর্ণ রাশ নিজের কবজায় নিতে। আর সেই উদ্দেশ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার ১ নম্বরে রেখে ১৪ জনের বিশেষ ‘হিট লিস্ট’ তৈরি করা হয়।
কীভাবে কার্যকর করা হয়েছিল এই অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত? বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর স্পষ্ট বক্তব্য, তালিকায় থাকা নির্দিষ্ট ১৪ জন প্রার্থীর নিজস্ব বিধানসভা এলাকায় ভোটের দিন দলীয় এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী কর্মীদের নিষ্ক্রিয় রাখা থেকে শুরু করে বিরোধী গোষ্ঠীকে পরোক্ষ মদত জোগানোর মতো একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হয় ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশে। ঋতব্রত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এই বিস্ফোরক ষড়যন্ত্রের স্বপক্ষে তাঁর কাছে জোরালো তথ্যপ্রমাণ রয়েছে এবং প্রয়োজনে তিনি তা আদালতের সমক্ষে পেশ করতেও সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের ঐতিহ্যবাহী খাসতালুক ভবানীপুর কেন্দ্রে তৎকালীন বিজেপি নেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাস্ত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের পর মমতা নিজে এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া ও প্রশাসনিক বেনিয়মের যে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছিলেন, ঋতব্রতর এই সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে তার সরাসরি সংযোগ মিলছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ক্যামাক স্ট্রিটের এই কথিত অন্তর্ঘাতের খবর সামনে আসতেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ এখন চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে।






