“সংবিধানের অষ্টম তফসিলে ঢুকছে কুড়মালি ভাষা!”, পুরুলিয়ার করম পরবের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরাট উপহার
৪০ হাজার মহিলার ঝুমুর নাচে অভ্যর্থনা! কড়াডি ময়দানে ইতিহাস গড়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
নয়ন কুইরি, পুরুলিয়া: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গেই পরিবর্তন এসেছে জঙ্গলমহলের সাংস্কৃতিক উৎসবের মেজাজেও। রাঙামাটির জেলা পুরুলিয়ায় আদিবাসী কুড়মি সম্প্রদায়ের প্রাচীন লোকউৎসব ‘করম পরব’ এবার আর কোনও নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ রইল না। রবিবার পুরুলিয়ার কড়াডি ময়দানে আয়োজিত করম পরবের মহাসমারোহের মূল কেন্দ্রে ছিলেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন কুড়মি সমাজের আবেগ ছুঁয়ে শুভেন্দু এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন, আদিবাসী কুড়মিদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ‘কুড়মালি’ ভাষাকে ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলের (8th Schedule) অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই মেগা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কড়াডি ময়দানে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের মধ্যে তুমুল করতালি ও উচ্ছোসের জোয়ার বয়।
মাসখানেক আগে আদিবাসী কুড়মি সমাজের ‘মূল মানতা’ অজিত মাহাতো এবং বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতো নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এই উৎসবে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কথা দিয়ে কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার আকাশপথে অন্ডাল হয়ে সরাসরি পুরুলিয়ার কড়াডি ময়দানে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে প্রায় ৪০ হাজার আদিবাসী নারী প্রথাগত ঝুমুর নাচের ছন্দে তাঁকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানান। মঞ্চে ওঠার পর আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী হলুদ পাগড়ি এবং সুদৃশ্য উত্তরীয় পরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বরণ করে নেন অজিত মাহাতো, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতো ও সুদেশ মাহাতোরা।
মঞ্চে ভাষণ দিতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী বিগত তৃণমূল সরকারকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন। শুভেন্দু বলেন, “অজিত মাহাতো আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন যে, কীভাবে পূর্ববর্তী সরকার আদিবাসী ও কুড়মি ভাইদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে। আপনারা যখন নিজেদের ভাষার ন্যায্য দাবির লড়াই করছিলেন, তখন আপনাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছিল, দেওয়া হয়েছিল একের পর এক মিথ্যা মামলা।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের নির্বাচনী সংকল্পপত্রে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লিতে বসে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও সুদেশ মাহাতোরা আলোচনা করেছেন। সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে, কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে দেশের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং খুব দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।”
ভাষার অধিকার এবং বিজেপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১৯২৫ সালে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু অলচিকি হরফ আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ কয়েক দশকেও কংগ্রেস সরকার তাকে সরকারি স্বীকৃতি দেয়নি। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীজি সাঁওতালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে সম্মান জানিয়েছিলেন। বিজেপি যা কথা দেয়, তা পালন করে। অটলজি সাঁওতালি দিয়েছিলেন, আর নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে কুড়মালি ভাষাও তার যোগ্য সম্মান পাবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পর জঙ্গলমহলে কুড়মি রাজনীতির সমীকরণ নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






