জগন্নাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিশ্ব শান্তি মহা যজ্ঞ সঙ্গে অজস্র কন্ঠে গীতা পাঠ
হরিনাম সংকীর্তন থেকে অজস্র কন্ঠে গীতা পাঠে মুখর হয়ে উঠবে নবনিলাচল মাহেশ।
তরুণ মুখোপাধ্যায়, হুগলি: ভক্তি আর বিশ্বাসের মহামিলন ক্ষেত্র হচ্ছে হুগলির শ্রীপাঠ মাহেশ, আর এই মহেশের ৬২৯ বছরের প্রাচীন জগন্নাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দুদিনব্যাপী বিশ্ব শান্তি যজ্ঞ এবং ধর্ম মহা সভা। চৈতন্য মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ পার্সদ ঠাকুর কমলাকর পিপলাই এর স্মৃতি মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত হতে চলেছে দুদিন ব্যাপী বিরাট মহোৎসব। হরিনাম সংকীর্তন থেকে অজস্র কন্ঠে গীতা পাঠে মুখর হয়ে উঠবে নবনিলাচল মাহেশ।

জগন্নাথ দেব ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানালেন দুদিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানের প্রথম দিন অর্থাৎ ৩১শে জানুয়ারি শ্রীরামপুরের হোলি হোম স্কুল সংলগ্ন গঙ্গার ঘাট থেকে এক বিশাল শোভাযাত্রা ভারতবর্ষের বিভিন্ন মঠ এবং মন্দির থেকে আগত সাধু-সন্তদের নিয়ে মহেশের জগন্নাথ মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন , এরপরই মন্দির চত্বরে শুরু হবে অজস্র কণ্ঠে গীতা পাঠের আসর, যা এক আধ্যাত্মিক ভাবাবেগ সৃষ্টি করবে, ওই দিনই সন্ধ্যায় হবে ভক্তিমূলক সংগীতের অনুষ্ঠান।
দ্বিতীয় দিন পহেলা ফেব্রুয়ারি কমলাকার পিপলাই এবং ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারীর এই যুগল মহাপুরুষের প্রস্তর মূর্তি স্থাপন হবে জগন্নাথ মন্দিরে, ভারতবর্ষের বিভিন্ন পবিত্র নদ, নদী সমুদ্র থেকে ১০৮ কলস জল এবং বৃন্দাবন থেকে মাটি নিয়ে এসে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী এবং কমলাকার মূর্তির স্থাপনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় পর্বে হবে বিশ্ব শান্তিযজ্ঞ, ভারতবর্ষের বিভিন্ন মঠ থেকে আগত সাধু সন্ন্যাসী রা এই মহাযজ্ঞে অংশ নেবেন, প্রভু জগন্নাথকে নিবেদন করা হবে ৫৬ ভোগ, ভক্তরা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন ৬৪ মহন্তের ভোগ দর্শন।
পিয়াল বাবু জানান ৬২৯ বছর আগে সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী মহেশের যে ঐতিহাসিক জগন্নাথ বলরাম এবং সুভদ্রার মূর্তি স্থাপন করে সাধন ভজন শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে প্রভু চৈতন্যদেবের অন্যতম পার্ষদ কমলাকর পিপলাই মহাপ্রভুর সেবার গ্রহণ ভার গ্রহণ করেছিলেন শতকের পর শতক কেটে গেলেও আজও তা অমলিন।
নব নীলাচল মাহেশের প্রভু জগন্নাথ দেবের দর্শনে এসেছেন বহু মহাপুরুষ, এর মধ্যে রয়েছেন চৈতন্যদেব, থেকে শুরু করে ঠাকুর রামকৃষ্ণ, মা সারদা মনি, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পদধূলিতে ধন্য হয়েছে ঐতিহাসিক মাহেশ গ্রাম।পুরীর পর, মাহেশের জগন্নাথ দেবের মন্দির এবং রথযাত্রা ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রা হিসেবে পরিগণিত। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রা এছাড়াও প্রতিদিন তিনবার মহাপ্রভুকে ভোগ নিবেদন করা হয়, সকালে মঙ্গল আরতি থেকে সন্ধ্যা আরতি দেখার জন্য প্রতিদিন মন্দির চত্বর ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত থাকে।






