রাজ্যের খবর

ঘরছাড়াদের জন্য শেষমেশ ময়দানে ‘সেনাপতি’! চালু হল ‘এক ডাকে অভিষেক’ হেল্পলাইন

দল ভেঙে চুরমার হতেই হুঁশ ফিরল শীর্ষ নেতৃত্বের? কর্মীদের ক্ষোভ থামাতে অভিষেকের এই চাল কি মাস্টারস্ট্রোক?

Truth of Bengal: নির্বাচন মিটেছে বেশ কিছুদিন, কিন্তু তার রেশ এখনও কাটেনি। ভোটের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের ওপর লাগাতার অত্যাচার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠছিল। অথচ, দলের এমন দুর্দিনেও শীর্ষ নেতাদের কাউকেই মাঠে-ময়দানে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছিল না। উল্টে একদল নেতা-বিধায়ক রাতারাতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন, আর যাঁরা দলে আছেন, তাঁরাও মূলত ঘরবন্দি। খোদ কালীঘাট তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এতদিন প্রকাশ্যে না আসায় নিচুতলার কর্মীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছিল। জেলায় জেলায় কর্মীরা দল ছাড়তে শুরু করেছিলেন। অবশেষে সেই ক্ষোভের ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে এবং হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল ভেঙে চুরমার হওয়ার উপক্রম হতেই এবার নিচুতলার নিপীড়িত কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করল কালীঘাট তৃণমূল। ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই নতুন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘এক ডাকে অভিষেক’। দলের ওই পোস্টারে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় বিজেপির অত্যাচারে ঘরছাড়া, নিপীড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে পড়া কর্মীদের আইনি সহায়তার জন্যই এই উদ্যোগ। এর জন্য একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে, যা হল, ৭৮৮৭৭৭৮৮৭৭।

যদিও এই পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতাদের দাবি, এই হিংসার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের একাংশের যুক্তি, দুর্নীতিগ্রস্ত কালীঘাট তৃণমূল যেভাবে দুর্দিনের কর্মীদের একা ফেলে রেখেছিল, তার প্রতিবাদেই তাঁরা দল ছেড়েছেন।

এই চরম রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মঙ্গলবার আরও একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কালীঘাটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পর এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সুরক্ষাতেও বসানো হল ‘ভিউ কাটার’। মঙ্গলবার দুপুরে দেখা যায়, অভিষেকের বাড়ির মূল গেটটি সম্পূর্ণ ঢেকে দেওয়া হচ্ছে, যাতে বাইরে থেকে ভিতরে কী চলছে তা আর দেখার কোনও উপায় না থাকে। একদিকে কর্মীদের জন্য হেল্পলাইন খুলে জনসংযোগের চেষ্টা, অন্যদিকে নিজের বাড়িকে বাইরের চোখ থেকে আড়াল করা, সেনাপতির এই দ্বিবিধ কৌশল নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। এখন দেখার, এই হেল্পলাইনের হাত ধরে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা ঘরে ফেরেন কি না!

Related Articles