“কোনও রাজনৈতিক নেতার পুজোয় যাচ্ছি না!” পুজো উদ্বোধন নিয়ে কেন এ কথা বললেন দিলীপ ঘোষ?
পুজোকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে হবে! শমীকের সুরেই ইকো পার্ক থেকে ধামাকা বার্তা পঞ্চায়েত মন্ত্রীর
Truth of Bengal: বঙ্গ রাজনীতিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর এবার রাজ্যের প্রথম দুর্গাপুজো ও গণেশপুজোর আগে বড়সড় সাংস্কৃতিক সংস্কারের ডাক দিল বিজেপি নেতৃত্ব। গত তৃণমূল জমানায় রাজ্যের অধিকাংশ হেভিওয়েট পুজো মণ্ডপের ফিতে কাটা থেকে শুরু করে পুজো কমিটিকে নিয়ন্ত্রণ করতেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। তবে বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর ধর্মীয় উৎসবকে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রচার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার স্পষ্ট বার্তা দিল নবান্ন। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আহ্বান জানিয়েছিলেন, নেতানেত্রীদের বদলে সমাজের প্রকৃত গুণীজনদের দিয়েই যেন পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করানো হয়। সেই একই সুর সমর্থন করে রাজপথ থেকে নজিরবিহীন বার্তা দিলেন রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
রবিবার সকালে নিউ টাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমি নিজে এ বার কোনও রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত বা দলীয় এজেন্ডা ভিত্তিক পুজোয় যাচ্ছি না।” তাঁর মতে, পুজো মণ্ডপগুলি স্রেফ রাজনীতিকদের প্রচারের রাজনৈতিক মঞ্চ হতে পারে না। তাই মণ্ডপের ফিতে কাটার জন্য কাদের আমন্ত্রণ জানানো উচিত, তার একটি বিশেষ রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ প্রস্তাব দেন, “যাঁরা দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করে পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ কিংবা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছেন, সেই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে পুজোর শুভ সূচনা করানো হোক। এমনকি আগের সরকারের আমলে সম্মানিত হওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, যাঁরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আনুগত্যে আবদ্ধ নন, তাঁদেরও সসম্মানে ডাকা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা সাধুসন্ত, প্রখ্যাত ক্রীড়াবিদ এবং গ্রামগঞ্জের যেসব সাধারণ মানুষ নীরব সমাজসেবায় অনন্য অবদান রাখছেন, তাঁদের লাইমলাইটে এনে উদ্বোধক হিসেবে তুলে ধরা উচিত। তাঁরাই সমাজকে অনুপ্রাণিত করবেন।”
উল্লেখ্য, রাজ্য পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মর্যাদায় উন্নীত করতে কাজ করছে। তৃণমূল আমলে ‘নেতাদের পুজো’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ করতেই ক্ষমতাসীন বিজেপির এই যৌথ বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। শমীক ও দিলীপের এই আহ্বানের পর শহরের হেভিওয়েট পুজো কমিটিগুলি তাদের উদ্বোধকের তালিকায় শেষমুহূর্তে কী পরিবর্তন আনে, সেদিকেই এখন সবার নজর।






