রাজ্যের খবর

এবার ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগ! ডায়মন্ড হারবারে এফআইআর অভিষেকের বিরুদ্ধে

আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকার মাটি বেআইনিভাবে কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে এই এফআইআর দায়ের করেন ওই বিজেপি নেতা।

Truth of Bengal: বিজেপি নেতা অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল-সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে কালীতলা আশুলিয়া থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকার মাটি বেআইনিভাবে কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে এই এফআইআর দায়ের করেন ওই বিজেপি নেতা। কয়লা পাচার, নিয়োগ দুর্নীতি এবং ত্রিপল চুরির মতো একাধিক মামলার পর এবার এই নতুন মাটি চুরির অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

২০২০ সালের বিধ্বংসী আমফান ঘূর্ণিঝড়ের সময় দুর্গত মানুষের জন্য সরকারিভাবে আসা ত্রাণের ত্রিপল বেআইনিভাবে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে মজুত করে রাখার অভিযোগে একসময় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববি। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতেই এই প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী লুকিয়ে রেখে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। সেই সময় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার এই আর্থিক দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে পুলিশে একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা ববি।

ত্রিপল চুরির সেই পুরনো বিতর্কের পর এবার শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তাঁর পলাতক আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল-সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে প্রমাণ-সহ আরও একটি চাঞ্চল্যকর মাটি চুরির অভিযোগ সামনে এনেছেন তিনি। সোমবার রাতে কালীতলা আশুলিয়া থানায় দায়ের করা এই নতুন এফআইআরের সমর্থনে ববি ওই নির্দিষ্ট এলাকার বেশ কিছু উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট চিত্র পেশ করেন। তাঁর দাবি, এই স্যাটেলাইট ছবিগুলো থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ঠিক কোথায়, কতটা পরিমাণ মাটি বেআইনিভাবে কাটা হয়েছিল এবং এর ফলে সেখানকার স্থানীয় ভূমি রূপের কতটা মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

বিজেপি নেতার দায়ের করা অভিযোগের খতিয়ান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে প্রায় ১৬৩ বিঘা জমির মাটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কেটে চোরাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতা ববি বলেন, “সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো এখানকার ভূমিপুত্র নন, তাই এই অঞ্চলের মাটির মূল্য তিনি কখনই বুঝবেন না। ২০১৭ সাল থেকেই এই এলাকায় ধাপে ধাপে মাটি কেটে চোরাপথে বিক্রি করার মস্ত সিন্ডিকেট চলছে, যা ২০২২ এবং ২০২৩ সালে আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আমরা পূর্বেও এই নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও পুলিশ তখন তাতে কোনো গুরুত্ব দেয়নি এবং কোনো তদন্তও করেনি। তাই এবার আমরা নতুন করে স্যাটেলাইট ইমেজের অকাট্য প্রমাণ-সহ থানায় অভিযোগ জানালাম। এইভাবে যত্রতত্র মাটি কেটে নেওয়ার ফলে শুধু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে না, বরং আগামী দিনে এখানকার সাধারণ মানুষকে ভূমিক্ষয়ের মতো অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গুরুতর সমস্যার মুখে পড়তে হবে।”

Related Articles