‘শিল্প হবে, তবে কৃষি জমিতে নয়’, সিঙ্গুরের সভা থেকে বার্তা মমতার
টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলেন তিনি এই মাটিতে।
রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিঙ্গুর – এই দু’য়ের মধ্যে সম্পর্ক কতটা গভীর তা কারও অজানা নয়। ২০০৬ সালে তৎকালীন বাম সরকারের বেআইনি জমি অধিগ্রহণের জেরে সারা দেশের সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল হুগলি জেলার সিঙ্গুরের নাম। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তেও মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল সেই খবর। টাটা সংস্থার গাড়ি তৈরির কারখানা এবং তাকে ঘিরে জমি অধিগ্রহণ বিতর্কে সিঙ্গুরের কৃষকদের কাছে ত্রাতা রূপে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলেন তিনি এই মাটিতে।
তারপর পেরিয়ে গিয়েছে দু’টি দশক। রাজ্যে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার পিছনে সিঙ্গুর আন্দোলনের বড় ভূমিকা রয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞমহলের। তাই বুধে সেই সিঙ্গুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন, স্বাভাবিকভাবেই সেদিকে নজর ছিল সকলের। এদিন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সিঙ্গুরে রাজ্য সরকার কী কী করেছে সেই খতিয়ান তুলে ধরলেন মমতা। জানালেন, ৮ একর জমির ওপর সিঙ্গুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়েছে। এদিন ফের টাটা ইস্যু উসকে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘শিল্প হবে, তবে কৃষি জমিতে নয়।’
দু’দশক পর ভোটমুখী বাংলার নজরে সিঙ্গুর। এমনকি কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বও এই সিঙ্গুরকেই পাখির চোখ করেছেন শিল্প উন্নয়নের প্রশ্নে। কয়েকদিন আগেই সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু শিল্প নিয়ে একটা কথাও বলেননি তিনি। যা নিয়ে আশাহত সেখানকার মানুষ। কিন্তু বুধবার সেই সিঙ্গুর থেকেই একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস, সরকারি পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি জনসভাও করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করলেন তিনি। মনে করিয়ে দিলেন, ২৬ দিন অনশনের কথা। কৃষি জমি বাঁচাতে তাঁর লড়াইয়ের কথা। বাম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা বহুফসলি জমি অধিগ্রহণ করে শিল্প আনতে চেয়েছিলেন। তার প্রতিবাদ করেছিলেন টাটা প্রকল্পের জন্য জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকরা। ঘরের মেয়ের মতো তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে পিছু হটে টাটা।
বুধবার সেই সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই ৮ একর জমির ওপর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকেও একহাত নেন তিনি। বলেন, ‘সিঙ্গুরের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি নিজেকে বাজি রেখেছিলাম। মরার জন্যও তৈরি ছিলাম। কথা দিয়েছিলাম, কথা রেখেছি। জমি ফিরিয়ে দিয়েছি। তোমরা কী করেছ? শুধু মুখে বড় বড় বুলি? একটা ইট কি পুঁতেছ?’ বুঝিয়ে দিলেন বরাবরের মতোই সিঙ্গুরবাসীর পাশেই রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





