কলকাতা

বিধানসভার পর এবার কি লোকসভা ভাঙার পালা? ব্যর্থতা’ নিয়ে মমতাকে বিঁধে পোস্ট কাকলির

সমাজমাধ্যমে সরাসরি মমতার আক্রমণের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

Truth of Bengal: বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ঐতিহাসিক ভাঙন এবং ‘নতুন তৃণমূল’-এর আত্মপ্রকাশের পর এবার রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে নতুন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এ বার কি তবে লোকসভার পালা? লোকসভাতেও কি ভেঙে যেতে চলেছে তৃণমূলের সংসদীয় দল? গত কয়েক দিন ধরে এই জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরে ফের বিস্ফোরক পোস্ট করলেন বারাসতের চার বারের লোকসভা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সমাজমাধ্যমে সরাসরি মমতার আক্রমণের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

গত ২ জুন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে নাম না-করে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিশানা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে কাকলির পুত্রকে টিকিট দেওয়া হয়নি বলেই তিনি এখন দলের বিরুদ্ধে ‘বেসুরো’ মন্তব্য করছেন। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে সেই মন্তব্যেরই কড়া জবাব দিয়েছেন বারাসতের সাংসদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি লিখেছেন: ‘‘রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা চার বারের সাংসদ, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তিনি নিজের কথা ভাবেন বলে মনে হয়? এটা আসলে নীতি এবং সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে মানুষের রায়।’’ পোস্টের শেষে স্কটিশ কবি চার্লস ম্যাকায়ের কবিতার কয়েক লাইনও উদ্ধৃত করেছেন কাকলি। যার মূল নির্যাস হলো— কর্তব্যের সংগ্রামে জড়িয়ে পড়লে না চাইতেও অনেক শত্রু তৈরি হয়ে যায়। আর যদি শোনা যায় কারও কোনও শত্রু নেই, তবে বুঝতে হবে তিনি জীবনে কোনও কাজই করেননি। সরাসরি উল্লেখ না করলেও, এই কবিতার মাধ্যমে তিনি যে নিজের বর্তমান রাজনৈতিক লড়াইকেই ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট।

কাকলি ঘোষ দস্তিদার দীর্ঘ চার দশক ধরে রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিলেন। ছাত্র রাজনীতির সময় থেকে তাঁদের পরিচয়। তবে সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের (Chief Whip) পদ থেকে কাকলিকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেন মমতা। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখান থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। পদ হারানোর ঠিক পরের দিনই সমাজমাধ্যমে চরম হতাশা প্রকাশ করে বারাসতের সাংসদ লিখেছিলেন, ‘‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’’ পদ খোয়ানোর পর থেকেই শাসক শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন কাকলি। সম্প্রতি নদিয়ার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে দেখা যায় তাঁকে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এর পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বিশেষ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা (Central Security) দেওয়া হয়। ফলে বিজেপির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং পদ্মশিবিরে যোগদানের জল্পনা আরও দানা বাঁধে।

এরই মধ্যে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রত্যাখ্যান করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা বেছে নিয়েছেন তৃণমূলের ৫৯ জন বিদ্রোহী বিধায়ক। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দলের অন্দরের খবর, বিধানসভার মতোই লোকসভাতেও অনেক সাংসদ ‘সেনাপতি’র নেতৃত্ব মানতে নারাজ। বিধানসভার সেই একই মডেলে এবার লোকসভাতেও অভিষেককে সরিয়ে সংসদীয় দল ভাঙার কোনও প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, এবং তাতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ভূমিকা কী হবে—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এই বিষয়ে ‘নতুন তৃণমূল’-এর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য কিছুটা ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। ঋতব্রত বলেন, ‘‘সাংসদদের প্রত্যেকের সঙ্গেই আমার অত্যন্ত ভাল সম্পর্ক। কিন্তু গত সাত দিনে এই বিষয়ে কারও সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি।’’ লোকসভা ও দিল্লির অলিন্দে ঘাসফুল শিবিরের জল কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles