রাজ্যের খবর

মহিলা আইনজীবিকে মারধোর, ঘটনায় তোলপাড়

Female lawyer beaten up, incident causes chaos

Truth Of Bengal: আইনজীবীকে পুলিশের পরিচয় দিয়ে নজিরবিহীন নির্যাতন। বর্ধমান থানার নিস্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হল বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশন। তারা বুধবার এই ঘটনার প্রতিবাদে গোটা আদালতে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। একইসঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকে ৭২ ঘন্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন। অভিযোগ, আক্রমণের জেরে ওই মহিলা আইনজীবী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। ওই তরুণী মহিলা আইনজীবী ও বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ঘটনার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে সভ্য সমাজে তা অকল্পনীয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই আইনজীবী-সহ বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা, সিনিয়র আইনজীবী, তৃণমূল নেতা অরূপ দাস ও প্রদীপ আইচ এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, বর্ধমানের হোলির দিন (রাজ্যে দোলের পরদিন) ওই আইনজীবী, তার স্বামী, তার দিদি ও জামাইবাবু বর্ধমান আর্কেডের কাছে গিয়েছিলেন। এসময় একটি বাইকে দুটি ছেলে এসে বেপরোয়াভাবে তাদের ধাক্কা মারে। আইনজীবী তাদের বলেন, এতে তাঁদের দু’পক্ষেরই দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

এসময় একটি বাইকে এক ব্যক্তি ও এক মহিলা এসে দাড়ান। ওই ব্যক্তি মহিলা আইনজীবীর ঘাড় ধরে নামান। তার বাইকে পুলিশ লেখা ছিল। আইনজীবী পরিচয় দিলে মারধর আরও বেড়ে যায়। সে বলতে থাকে ‘আমি বর্ধমান থানার পুলিশ। আমি সব করতে পারি।’

এরপর সে মহিলার পেটে আঘাত করে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তার আক্রমণ চলতে থাকে। একসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এমনকি তার দিদিকেও মারধর করা হয়। তিনিও আহত হন। দল নিয়ে আরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয় ‘এভাবেই তোরা মরবি।’

মহিলা আইনজীবীর অভিযোগ, এরপর তারা বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানাতে যান। দীর্ঘক্ষণ তাকে বসিয়ে রেখে যখন তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তাকে হাসপাতালে যেতে বলা হয়। কিন্তু, এরপর বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বলা হয়, পুলিশের রিপোর্ট বা ফোন না পেলে ভর্তি করা যাবে না। গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশের শীর্ষকর্তারা। যদি ওই ব্যক্তি অপরাধী হন তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এর পরে ওই আইনজীবী অন্য জায়গায় চিকিৎসা করান। যদিও তার গর্ভস্থ শিশুটি আর বেঁচে নেই। এদিকে ওই আইনজীবী বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনকে অভিযোগ জানান। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা বলেন, বুধবার কোর্টে পেন ডাউন করছেন তারা। আর তিনদিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তারা বৈঠক ডেকে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন। শহরের মধ্যে একজন মহিলা আইনজীবীর উপর এই নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Related Articles