পরকীয়ার মর্মান্তিক পরিণতি, স্ত্রীর প্রেমিককে ছক কষে ডেকে খুন! গ্রেফতার দম্পতি
গভীর রাতে পরকীয়ার বলি ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী! বাড়িতে ডেকে এনে মাথা ও শরীরে এলোপাথাড়ি কোপ
Truth of Bengal: পরকীয়া সম্পর্কের এক ভয়াবহ পরিণতি দেখলেন উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের বাসিন্দারা! স্ত্রীর সঙ্গে এক যুবকের অবৈধ সম্পর্কের জেরে চরম প্রতিশোধ নিল স্বামী। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ছক কষে প্রেমিককে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার গভীর রাতে হাসনাবাদের আমলানী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘাতক স্বামী ও তাঁর স্ত্রীকে রাতেই গ্রেফতার করেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল হাসনাবাদে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম গোপালঋষি দাস। তিনি পেশায় একজন ডেকরেটার্স ব্যবসায়ী ছিলেন। আমলানী গ্রাম পঞ্চায়েতেরই হরিপুর দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাশীনাথ দাসের স্ত্রী কামনা দাসের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন গোপালঋষি। প্রায়ই কাশীনাথের অবর্তমানে তাঁর বাড়িতে যাতায়াত করতেন গোপাল। বেশ কয়েকবার তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারাও দেখতে পেয়েছিলেন। এই নিয়ে একাধিকবার কাশীনাথ নিজের স্ত্রী কামনা ও প্রেমিক গোপালকে কড়া ভাষায় সতর্ক করলেও তারা সেই বারণে কর্ণপাত করেননি। ফলস্বরূপ, ওই দম্পতির সংসারে প্রায় প্রতিদিনই অশান্তি লেগেই থাকত।
পূর্বপরিকল্পিত ছক ও নৃশংস খুন
অভিযোগ, বুধবার রাতে একটি সুনির্দিষ্ট ছক কষেন কাশীনাথ ও তাঁর স্ত্রী কামনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতে কামনা নিজে ফোন করে বা ডেকে পাঠান গোপালঋষি দাসকে। গোপাল বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে যথারীতি সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কাশীনাথের বাড়িতে প্রবেশ করেন।
তিনি বাড়ির অন্দরে পা রাখতেই ওত পেতে থাকা স্বামী কাশীনাথ ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর মারণ হামলা চালান। গোপালের মাথায় ও শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক কোপ মারা হয়। ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের জালে অভিযুক্ত দম্পতি
হঠাৎ করে বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি ও আর্তনাদ শুনতে পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরের বাইরে ছুটে আসেন। তাঁরা রক্তমাখা অবস্থায় যুবককে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তৎক্ষণাৎ হাসনাবাদ থানায় খবর দেন।
খবর পাওয়া মাত্রই হাসনাবাদ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পুলিশ রক্তাক্ত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামী কাশীনাথ দাস এবং তাঁর স্ত্রী কামনা দাসকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরকীয়ার বলি হয়ে কীভাবে একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে গেল, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ আধিকারিকরা।






