টিসি দিতে দেরি হওয়ায় ধুন্ধুমার! স্টাফ রুমে ঢুকে মহিলা কর্মীকে মারধরের অভিযোগ
ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ওই কর্মী
Truth of Bengal: ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল মালদহের বামনগোলার জগদলা হাই স্কুলে। স্কুলের এক মহিলা অশিক্ষক কর্মীকে স্টাফ রুমে ঢুকে পড়ুয়াদের একাংশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ওই কর্মী। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ, শুক্রবার স্টাফ রুমে ওই মহিলা কর্মীকে ঘিরে ধরে কয়েকজন পড়ুয়া। সেখানেই তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। মহিলা কর্মীর দাবি, এক প্রাক্তন ছাত্র ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিতে স্কুলে এসেছিল। কিন্তু স্কুলের নথিতে ওই ছাত্রের নামের বানানে ভুল থাকায় সঙ্গে সঙ্গে টিসি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছিল। বিষয়টি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না বলেই তিনি জানিয়েছিলেন।
এরপর ওই প্রাক্তন ছাত্রকে টিসি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েকজন পড়ুয়া স্টাফ রুমে ঢুকে তাঁকে মারধর করে বলে দাবি করেছেন ওই কর্মী। পাল্টা তিনিও কয়েকজন পড়ুয়াকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মহিলা কর্মীর আরও অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিত হালদারের উসকানিতেই তাঁর উপর হামলা হয়েছে। এর আগেও তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। অতীতে তাঁকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ওই কর্মী। শুক্রবারের ঘটনার পর বামনগোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁর পাল্টা দাবি, পড়ুয়ারাই এসে জানিয়েছে যে তাদের মারধর করা হয়েছে। এমনকি তাঁকেও হেনস্তা ও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দক্ষিণ মালদহ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়ের বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে কোনও ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা অশান্তি বরদাস্ত করা উচিত নয়।

