রাজ্যের খবর

ঘাটালের পর এবার আরামবাগ! বন্যা রুখতে এবার ১২০০ কোটি টাকার মেগা মাস্টারপ্ল্যান

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের পর বড় ঘোষণা, বদলে যেতে চলেছে বিস্তীর্ণ এলাকা?

Truth of Bengal: হুগলির আরামবাগ মহকুমা ও তৎসংলগ্ন এলাকার দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটাতে এক বিশাল উদ্যোগের রূপরেখা সামনে এসেছে। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের আদলেই আরামবাগের জন্যও তৈরি হতে চলেছে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘আরামবাগ মাস্টারপ্ল্যান’। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই মেগা প্রকল্পের বিষদ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। সেচ দফতর-সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রশাসনিক বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এলাকার সার্বিক জলনিকাশি ও নদী সংস্কারের পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, এই পুরো প্রকল্পের আনুমানিক বাজেট রাখা হয়েছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। বর্ষার সময়ে রূপনারায়ণ, দ্বারকেশ্বর এবং মুণ্ডেশ্বরী নদীর অতিরিক্ত জল জমে যেভাবে আরামবাগ ও পুরশুড়া ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়, তা প্রতিরোধ করতেই এই মহাপরিকল্পনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীখাত পুনঃখনন, নদীবাঁধ শক্তপোক্ত করা এবং জলনিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হল আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে সমগ্র কাজটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়া, যাতে প্রতি বছরের প্লাবন যন্ত্রণা থেকে স্থায়ী মুক্তি পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রশাসনিক এই পর্যালোচনায় শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণই নয়, এলাকাটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আরামবাগকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ত্বরাণ্বিত করা, বিভিন্ন প্রাচীন ও নড়বড়ে সেতুকে স্থায়ী কংক্রিটের সেতুতে রূপান্তর করা এবং ঐতিহ্যবাহী স্থান রাজা রামমোহন রায়ের জন্মভিটে সংস্কারের বিষ্যেও ইতিবাচক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করতে সেচ দফতরকে বিশেষভাবে তৎপর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্লাবনের মুখে পড়া আরামবাগ ও আশেপাশের ব্লকের মানুষ এই নতুন মাস্টারপ্ল্যানের খবরে আশার আলো দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, রূপনারায়ণ ও দ্বারকেশ্বরের জলচ্ছ্বাস প্রতি বছর কৃষিকাজ ও জনজীবনে যে বিপুল ক্ষতি ডেকে আনে, তা রুখতে এমন একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শুরু ও শেষ হলে আরামবাগের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক চিত্রের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles