দমদমের সার কারখানায় তাণ্ডব দুষ্কৃতীদের, তোলাবাজির অভিযোগে নাম জড়াল বিজেপি বিধায়কের
কারখানায় ঢুকে মোবাইল কাড়া, সঙ্গে কাটমানির দাবি! দমদমে বিজেপি বিধায়কের দলবলের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ
Truth of Bengal: রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর নবান্নের সিংহাসনে এখন বিজেপি সরকার। কিন্তু দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে বারবার ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় স্তরে কি পুরনো তোলাবাজির সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে পদ্ম শিবিরেও? সম্প্রতি এমনই এক অস্বস্তিকর ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার দমদমে। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে অবস্থিত ‘ইস্টার্ন অর্গানিক ফার্টিলাইজার’ নামক একটি সার কারখানায় ঢুকে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, কর্মীদের চরম মারধর, হুমকি এবং তোলাবাজির মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর নাম জড়িয়ে এই হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব।
জানা গিয়েছে, আক্রান্ত কারখানাটি দমদম অঞ্চলের মোট ৫টি পুরসভার পচনশীল আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ করে জৈব সার তৈরি করে আসছিল। গত শনিবার রাতে হঠাৎই ৪০ থেকে ৫০ জনের এক দল সশস্ত্র দুষ্কৃতী কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা কর্তৃপক্ষের গুরুতর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা নিজেদের ‘দমদমের বিজেপি বিধায়কের বিশ্বস্ত লোক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাণ্ডব চালায়। তাদের পরিষ্কার দাবি ছিল, কারখানায় শুধুমাত্র তাদের কথা মতো নির্দিষ্ট লোকেদের কাজ দিতে হবে, তাদের থেকেই সমস্ত নির্মাণ-সামগ্রী কিনতে হবে এবং প্রতি মাসে দিতে হবে মোটা অঙ্কের মাসোহারা বা কাটমানি!
কারখানা কর্তৃপক্ষের আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, হামলার সময় বাধা দেওয়ায় একাধিক কর্মীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং বহু কর্মীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মধ্যরাতের এই ভয়াবহ হামলায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে, যার জেরে রাতারাতি বন্ধ করে দিতে হয় গুরুত্বপূর্ণ এই সার কারখানার কাজ। কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে ইমেলের মাধ্যমে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
যদিও নিজের ও অনুগামীদের ওপর ওঠা সমস্ত অভিযোগ একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী। তিনি সাফ জানান, “আমার একাধিক অফিস রয়েছে, কিন্তু কাউকে সেখানে তুলে নিয়ে আসার ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় কিছু ঝুটঝামেলা হয়ে থাকতে পারে, তবে রাত নামলেই সেখানে পুরনো তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়। যেকোনও গোলমাল হলেই পরিকল্পিতভাবে বিজেপির নাম জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে যা-ই ঘটে থাকুক, তা অনুচিত।” তা সত্ত্বেও শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তি ও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নে দমদমের এই কারখানা বন্ধের ঘটনা পদ্ম শিবিরের কাছে বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।






