রাতের অন্ধকারে বইয়ের স্টলে আগুন! ফুলিয়ায় সিপিএমের বুক স্টলে ভাঙচুর-তাণ্ডব
হাতেনাতে ধরা পড়ে গেল এক অভিযুক্ত! ফুলিয়ায় সিপিএমের বুক স্টলে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য
মাধব দেবনাথ, নদিয়া: কলকাতা থেকে শুরু করে হাওড়া, হুগলি, একের পর এক জেলায় সিপিআইএমের বইয়ের স্টলগুলিতে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ উঠে আসছিল। আর এবার সেই অশান্তির তালিকা যুক্ত হল নদিয়ার ফুলিয়াও। রাতের অন্ধকারে শুধু সিপিআইএমের বুক স্টল ভাঙচুর করাই নয়, তাতে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল। ফুলিয়া রঙ্গমঞ্চের কাছে ফুলিয়া-তাহেরপুর রোডের ধারের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে সিপিআইএম নেতৃত্ব, যদিও শাসক দল বা অভিযুক্ত শিবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও ফুলিয়ার শারদ মেলা উপলক্ষে একটি বুকস্টল করেছিল সিপিআইএম, যার উদ্বোধন হয়েছিল গত ১৬ অক্টোবর। তবে দলীয় কর্মীদের দাবি, বুকস্টল তৈরির শুরু থেকেই নানাভাবে বাধা দেওয়ার চক্রান্ত চলছিল। গত কয়েক বছর ধরে যে নির্দিষ্ট জায়গায় এই স্টলটি করা হতো, তার আগের রাতেই সেখানে বিজেপির পক্ষ থেকে ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়েই পুরনো জায়গা থেকে প্রায় ৫০-৬০ মিটার দূরে নতুন করে বুকস্টলটি তৈরি করতে হয় তাদের।
স্টল চালুর পরের দিনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা ভেঙে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা, মেলা কমিটির অনুমতি এবং মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথা বলেই সমস্ত নিয়ম মেনে স্টলটি চালানো হচ্ছিল বলে দাবি সিপিআইএমের। এরপর রবিবার গভীর রাতে আচমকাই সেই স্টলে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। প্রথমে মনীষীদের ছবি, বই রাখার স্ট্যান্ড ও বসার বেঞ্চ বেপরোয়াভাবে ভাঙচুর করা হয় এবং পরে তাতে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়।
রাতের এই তাণ্ডব টের পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সিপিআইএম কর্মী ও সাধারণ মানুষ সেখানে ছুটে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের তৎপরতায় দু’জনকে হাতেনাতে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। একজন চম্পট দিলেও অন্য একজনকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেন সিপিআইএম কর্মীরা। এই ঘটনায় শান্তিপুর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একের পর এক জেলায় বামেদের বুকস্টলে এহেন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।






