কলকাতা

‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে মাইকে কে করেছিল ঘোষণা? চোরবাগান বিপর্যয়ে দুই সন্দেহভাজনের হদিশ পেল পুলিশ

ক্লাব কর্তারা উধাও, পুজো কমিটিতে চরম বিশৃঙ্খলা! কার কাঁধে চড়ে এবার হবে প্রতিমা বিসর্জন?

Truth of Bengal: উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপের ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় এবার এক চাঞ্চল্যকর রহস্যের সন্ধান পেল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। ঘটনার দু’দিন বাদে মণ্ডপের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং ধৃত ক্লাব কর্তাদের একটানা জেরা করে ঠিক কে বা কারা মাইক থেকে ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ বলে ঘোষণা করেছিলেন, সেই বিষয়ে দু’জন সন্দেহভাজনের নাম হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এই ভুয়ো ও আতঙ্কজনক ঘোষণার ফলেই ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি চরমে পৌঁছেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন প্রবল বৃষ্টির জেরে বাইরে বেরোনোর গেট আটকে দাঁড়িয়েছিলেন বহু দর্শনার্থী। অন্যদিকে প্রবেশপথ খোলা থাকায় ভেতরে নতুন মানুষের চাপে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ঠিক সেই সংকটজনক মুহূর্তেই অফিসঘর বা ভিআইপি লাউঞ্জের সঙ্গে যুক্ত মাইক থেকে কেউ বা কারা চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে, তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যান।’’ ওই ঘোষণায় আতঙ্কিত হয়ে দর্শনার্থীরা পাগলের মতো ছুটোছুটি শুরু করায় পদপিষ্টের ঘটনা ভয়াবহ আকার নেয়। লালবাজার সূত্রে খবর, সিসিটিভি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মিলিয়ে অমর বসু সরণির বাসিন্দা দুই ব্যক্তির নাম এই ঘটনায় জড়িয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি, এমনকি তাঁদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নতুন কমিটির ভূমিকা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং বিরোধী শিবির উভয়েই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে পুজো কমিটির অধিকাংশ সদস্যই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় এখন সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে। পুরোহিত ও দু’জন স্থানীয় মহিলার সাহায্যে পুজোর রীতিনীতি কোনোমতে চললেও, দায়িত্বশীল কর্তারা উধাও থাকায় বিসর্জনের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে তীব্র সংশয় ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

Related Articles