৪ তারিখের পর আসা ‘নব্য’ বিজেপিরাই সিপিএমের বুক স্টল ভেঙেছে! বিস্ফোরক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী
"ওরা আসল বিজেপি নয়, অতি উৎসাহী নতুন দলবদলু!", সিপিএমের বুক স্টল ভাঙচুর নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন সাংসদ
Truth of Bengal: শারদোৎসবের আবহেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসছে। নবমীর রাতেও উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি কিংবা উত্তর দিনাজপুর, একাধিক জায়গায় বামেদের বুকস্টলে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সমস্ত ঘটনার নেপথ্যে শাসকদল তথা বিজেপির হাত রয়েছে বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে সিপিএম। আর এই রাজনৈতিক আবহে সমস্ত বিতর্ককে উসকে দিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা ডা. সুভাষ সরকার।
দুর্গাপুরের একটি পুজো মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ। সেখানেই বামেদের বুকস্টল ভাঙার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি সাফ জানান যে, গত ৪ তারিখের পর যারা দলবদল করে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের মধ্য থেকেই কিছু অতি উৎসাহী লোক নিজেদের নতুন রাজনৈতিক পরিচয় জাহির করতে এই ধরনের ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এই সমস্ত হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে আদি বা প্রকৃত বিজেপির আদর্শের কোনও দূরদূরান্তের সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরেই দুর্গাপুজোর আনন্দ ছাপিয়ে খবরের শিরোনামে রয়েছে বামেদের বুকস্টলগুলিতে হামলার ঘটনা। বিশেষ করে নবমীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের শেরপুর-কালীবাড়ি মোড়ে সিপিএমের একটি বইয়ের স্টলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ আধিকারিকও জখম হন। এছাড়া উস্তি ও উত্তর দিনাজপুরেও একই কায়দায় বুকস্টল ভাঙার অভিযোগ উঠেছে।
সিপিএম নেতৃত্বের তরফ থেকে কড়া ভাষায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাজ্যে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা তৈরি করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হচ্ছে। বিরোধীদের এই আক্রমণ এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘটে চলা এমন অশান্তির মধ্যেই প্রাক্তন বিজেপি নেতার এমন মন্তব্য দলের অন্দরে ও বাইরে নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সব মহল।


