ক্যানিংয়ে প্রচারের মাঝেই আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা! ভেঙে চুরমার গাড়ি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনাখাঁ লাগোয়া দেউলি এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
Truth of Bengal: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে বাংলায়। আর ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক সংঘাতের চেনা ছবি ধরা পড়ছে। মঙ্গলবার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম প্রচারে বেরোলে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠল। ভাঙচুর করা হয় তাঁর গাড়ি, ভেঙে দেওয়া হয় কাচ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনাখাঁ লাগোয়া দেউলি এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এক সময়ের ভাঙড়ের দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম এবার তৃণমূল ত্যাগ করে নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছেন। দল তাঁকে ক্যানিং পূর্ব থেকে টিকিট দিয়েছে, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের বাহারুল ইসলাম। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লা এবার অন্য আসন থেকে লড়লেও এলাকায় তাঁর অনুগামীদের প্রভাব আজও প্রশ্নাতীত। এদিন সকালে আরাবুল দেউলি এলাকায় প্রচারে গেলে অভিযোগ ওঠে যে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর রাস্তা আটকায় এবং গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার সময় আরাবুল গাড়ির ভিতরেই ছিলেন, তবে দলীয় কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় তিনি বড়সড় চোট পাননি।
এই ঘটনার খবর চাউর হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। আইএসএফ ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়, যার ফলে বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করতে হয়। পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের প্রার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা বাসন্তী হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা মুখ খুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের অভিযোগ, ক্যানিং পূর্বে আইএসএফ এবং আরাবুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে তাদের প্রার্থী বাহারুল ইসলামকে প্রচারে বাধা দিচ্ছেন এবং এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন। আরাবুল ইসলাম অবশ্য পাল্টা দাবিতে জানিয়েছেন, শওকত মোল্লার বাহিনীই পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। নির্বাচনের আগে ক্যানিং পূর্বের এই রণক্ষেত্রের চেহারা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।






