ফুরফুরা থেকে খালি হাতে হুমায়ুন, দেখা করলেন না নওশাদ
জোটের বার্তা নিয়ে তাঁর এই সফর কার্যত সফল হল না।
Truth Of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নিজের নবগঠিত দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র জমি শক্ত করতে শুক্রবার হুগলির ফুরফুরা শরিফে পৌঁছেছিলেন তিনি। কিন্তু জোটের বার্তা নিয়ে তাঁর এই সফর কার্যত সফল হল না। ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে তাঁর দেখা না হওয়ায় খালি হাতেই ফিরতে হল হুমায়ুনকে।
শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে গিয়ে পীরজাদা সাহেরি সিদ্দিকি ও ইব্রাহিম সিদ্দিকির সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন কবীর। তবে আইএসএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকি বা নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটেনি। সূত্রের খবর, আইএসএফ-এর তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হুমায়ুনের দল পুরোপুরি ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ চরিত্র বজায় না রাখলে জোটের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এদিন নওশাদের অনুপস্থিতি হুমায়ুনের রাজনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
নওশাদের দেখা না পেলেও ফুরফুরা শরিফের মাটি থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, “বিজেপিকে হারাতে আর তৃণমূলকে তাড়াতে এক হয়ে লড়ার ডাক দিচ্ছেন।” এই লক্ষ্যপূরণেই আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, সেই সভায় অন্তত ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে। পাশাপাশি ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করার ঘোষণাও করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের বিধায়ক পদে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছিলেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যে অস্বস্তি বাড়ছিল শাসক শিবিরের। সম্প্রতি দল তাঁকে বহিষ্কার করলেও তিনি বিধায়ক পদ ছাড়েননি। বরং নিজের নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানতে হুমায়ুনের ফুরফুরা সফর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।






